ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের পরপরই তাকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করে অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে সারোয়ার আলমগীরের ফলাফল প্রকাশ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে রিট আবেদনকারীর (সারোয়ার আলমগীর) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
হাইকোর্টের রায়ের পরপরই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চট্টগ্রাম-২ আসনের ফলাফল সংক্রান্ত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৯ এর দফা (৪) অনুযায়ী ইসি উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই গেজেটে সারোয়ার আলমগীরকে উক্ত নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি আদালত রুল জারির পাশাপাশি তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।
আদালতের সেই নির্দেশনার কারণে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসির মূল গেজেটে চট্টগ্রাম-২ আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলে আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে সারোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। চূড়ান্ত রায়ের পর তার আইনজীবীরা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে এবং দ্রুতই তার শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রাম-২ আসনের গেজেট প্রকাশ হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিষয়ে আদালতের রায়ের কপি হাতে না পাওয়ায় এখনও পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়নি ইসি।
আরএনবি/এমএইচএইচ/এফএ




