ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
এর ফলে ভোটে জয়ী এই বিএনপি নেতার গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মনির।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের আদেশে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সারোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এ সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। গত ২ জুলাই এই রিটের শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিল আদালত।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুনানিতে যুক্তি দিয়েছিলাম যে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী যেদিন মনোনয়নপত্র দাখিল করা হবে, সেদিন তিনি ঋণখেলাপি কি না— সেটিই বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু আজ আদালত বলেছেন যে, বাছাইয়ের (স্ক্রুটিনি) তারিখে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি স্ক্রুটিনির দিনটি প্রাসঙ্গিক নয়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনটিই প্রাসঙ্গিক। তারপরেও আদালত রুল অ্যাবসোলিউট করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে যাব। আমরা মনে করি এটি একটি লং ফাইট (দীর্ঘ লড়াই)। লিখিত রায় পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা আপিল করব এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগ পর্যন্ত হাই কোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। গত ২৭ জানুয়ারি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।
পরে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।
এরপর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুততম সময়ে (সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে) হাই কোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিতের আদেশ বহাল রাখে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল।
আরএনবি/এমআই




