শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপির সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ, শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপির সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ, শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট
বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। - ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

এর ফলে ভোটে জয়ী এই বিএনপি নেতার গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আইনজীবী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের আদেশে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সারোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এ সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছিল। গত ২ জুলাই এই রিটের শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিল আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারীর (সারোয়ার আলমগীর) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন ও জাস্টিস ফয়জী।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।

রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত রায়ে বলেছেন সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশন আপিল গ্রহণ করে তার প্রার্থিতা যে বাতিল করেছিল, তা অবৈধ এবং ‘ম্যালিস ইন ল’ (আইনগত বিদ্বেষপ্রসূত) ছিল। সুতরাং, তিনি একজন বৈধ প্রার্থী।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারোয়ার আলমগীর ইতোমধ্যে নির্বাচন করে ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। যেহেতু এই রিট পিটিশনে রুল অ্যাবসোলিউট (যথাযথ) হয়েছে, এখন নির্বাচন কমিশন তাকে গেজেটভুক্ত করবে এবং শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সংসদে যাবেন।’

একই পক্ষের আরেক আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমার দিন ইস্যু ছিল তিনি ঋণখেলাপি কি না। সেদিন তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না এবং রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আপিল করলে প্রায় ২০ দিন পর সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি ডকুমেন্ট দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ের কোনো কাগজ আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে না, হাইকোর্ট আজ সেটাই লিগ্যাল হিসেবে ঘোষণা করেছে।’

রিটার্নিং অফিসার নিয়ম মেনেই প্রার্থিতা বৈধ করেছিলেন উল্লেখ করে এই পক্ষের আরেক আইনজীবী ফয়জী বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, ব্যাংকসহ কারও কোনো আপত্তি নেই। এরপর জামায়াতের প্রার্থী আপিল করলে দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচন কমিশন তা খারিজ করে দেয়। কিন্তু অবৈধভাবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেই রায় বদলে তারা বলে আপিল অ্যালাউড এবং সারোয়ার আলমগীরের নমিনেশন বাতিল। হাইকোর্ট আজ নির্বাচন কমিশনের আপিলের সেই রায়টা অবৈধ ঘোষণা করেছে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। গত ২৭ জানুয়ারি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।

পরে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।

এরপর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুততম সময়ে (সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে) হাই কোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিতের আদেশ বহাল রাখে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল।

আরএনবি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর