বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চকবাজারের ৮ তলা ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

চকবাজারের সেই ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাই ছিল না

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেট নামে আট তলা ভবনটিতে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। ভবনটির আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার পরে ফায়ারের কর্মীরা আগুনের খবর পান। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকার সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। 

ভবনটিতে কী ধরনের ফায়ার সেফটি ছিল জানতে চাইলে নজমুজ্জামান বলেন, ভবনটিতে অগ্নিনির্বানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না এবং বাইর হওয়ার রাস্তাও ছিল না। বিশেষ করে আমরা যখন আগুন নির্বাপন করেছি তখন রাস্তায় অনেক ভিড় ছিল। ফলে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। 

আগুন নেভানোর বর্ণনা দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুনের সংবাদ পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের লালবাগ টিম হাজির হয়। তারা সেই ভবনে দেখতে পায় প্রচণ্ড ধোঁয়া। ভবনে ওঠার মাত্র একটি সিঁড়ি। আর সেই সিঁড়ির দৈর্ঘ্য মাত্র দুই ফিট। এ কারণে তিন তলার যে কক্ষটি সামনে ছিল সেটাতে আগুন ছিল। প্রচণ্ড আগুন থাকার পরও দক্ষতার সঙ্গে আমাদের ফায়ার ফাইটাররা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

নজমুজ্জামান বলেন, আগুনের সময় ভবনের তৃতীয় তলার প্রত্যেকটি গুদামের সার্টারগুলো তালাবদ্ধ ছিল। সার্টারগুলো আমাদের খুলতে হয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। পরে সিদ্দিকবাজার থেকে ফায়ারের আরও চারটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। আমরা এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিনিটের মধ্যে আগুনটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।  

 

 

আগুন নেভাতে পৌনে দুই ঘণ্টা লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে এই কর্মকর্তা বলেন, যে সার্টারগুলো কাটা হয়েছে সেখানে রুমভর্তি ছাতা, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য মালামালগুলো গুদামে রক্ষিত আছে। এই মালামালগুলো সরাতে হয়েছে। সরাতে অনেক সময় লাগছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। ফায়ারের কর্মীদের দক্ষতা ও বুদ্ধির কারণে আশপাশের মার্কেটগুলো আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। ফলে  আগুনটা ছড়াতে পারেনি। 

ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই সহকারী পরিচালক বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধারের বিষয়ে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধারের বিষয়ে পরে বলা যাবে। আগুনের সূত্রপাতের কারণ উদঘাটনে আমাদের একটি কমিটি হবে। তারপর বলা যাবে আগুনের কারণ। 

হাজী আবুল বাশার সুপার মার্কেটটি আট তলার পুরোটাই বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এখানে আটটি গুদাম ও আটটি দোকান রয়েছে। আগুন নেভানোর পর থেকে মার্কেটের গেটে তালা দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা এই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিকাল সাড়ে ৫টায় বিদ্যুৎ  সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। 

এমআইকে/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর