সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে মাসব্যাপী কর্মসূচি এনডিএফের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা, ডকুমেন্টেশন ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরাই এ আয়োজনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘৩৬ জুলাই উদযাপন ২০২৬’ উপলক্ষে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এনডিএফের সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিক ও চিকিৎসকসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন, অন্যদিকে চিকিৎসকরা গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

ওয়ালিউল্লাহ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়াবহ গুলিবিদ্ধ, মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বের হয়ে আসা এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো অসংখ্য ঘটনা দেখেছি। চিকিৎসকরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এসব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বহু প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।’ 

ডা. ওয়ালিউল্লাহ জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় শুধু এনডিএফের উদ্যোগেই প্রায় ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিলে সেগুলো সরবরাহেরও চেষ্টা করেছে সংগঠনটি। 

 

এই চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা জুলাই উদযাপন করছি শুধু উৎসবের জন্য নয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার ইতিহাস জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ভবিষ্যতেও যদি কোনো স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসে, জনগণ আন্দোলন করবে এবং সেই আন্দোলনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম জনগণের পাশে থাকবে।’

বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে টেকসই হতে না দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চিকিৎসক সমাজ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের আয়োজনে তাদের প্রতিপাদ্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ইনসাফ, মেধা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’।

সংগঠনের মিডিয়া উইংয়ের আহ্বায়ক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক বলেন, মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

জিয়াউল হক বলেন, ইতিহাস শুধু স্মরণ করার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্যও শিক্ষা দেয়। তাই চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১ জুলাই কর্মসূচির উদ্বোধন, ওয়েবসাইট চালু এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর ১৫ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম, ১৭ থেকে ৩১ জুলাই বিভিন্ন আয়োজন এবং ১ থেকে ৮ আগস্ট সমাপনী পর্যায়ের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত অনুষ্ঠান হবে আগামী ৯ আগস্ট।

মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই মেডিকেল কনফারেন্স, ‘রান ফর জুলাই’, কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্রতিযোগিতা, শহীদ আব্দুল আহাদ কিডস ফেস্ট ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, শহীদ আলী রায়হান কালচারাল ফেস্ট, শহীদ হাজী শরীফ ওসমানকে নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জুলাই মেমোরি প্রকাশনা, জুলাই প্রদর্শনী এবং এনডিএফ '৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড'।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, আলোকচিত্র, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক ও সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, তরুণ সমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত হবে।

এমএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর