সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে সে দেশের সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে বেনজীরের সম্পর্কে তথ্য নিতে আজ দুপুরে দুদকে এসেছে ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) দুই সদস্যের একটি টিম।
এর আগে গত রোববার (১৬ জুন) আরব আমিরাতে বেনজীরকে গ্রেফতার করার বিষয়টি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সাবেক আইজিপিকে ফেরত আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
আরও পড়ুন: বেনজীর আহমেদকে ঘিরে যত বিতর্ক
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করেছিল।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। সেই নোটিশের ভিত্তিতে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়।
অবশেষে ইন্টারপোলের সহায়তায় আরব আমিরাতের শহর দুবাইয়ে গত ১২ জুন গ্রেফতার হন দেশের মহাবিতর্কিত পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ। এদিন তিনি লন্ডন থেকে দুবাইয়ে এসেছিলেন। এরপর ট্রানজিট নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় তার অবস্থান ধরা পড়ে বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরায়।
আরও পড়ুন: বেনজীরের দেশ-বিদেশে যত অবৈধ সম্পদ
এর পরপরই বেনজীরের ব্যাপারে ক্যামেরা তথ্য পাঠায় বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের কম্পিউটারে। তখন সেই বার্তা চলে যায় দুবাই এয়ারপোর্ট পুলিশের কাছে। দ্রুত তারা তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করেন। তাকে ধরার পর দেশটিতে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে প্রবেশ করার দায়ে গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বেনজীর আহমেদ। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলা রয়েছে। ক্ষমতার পব্যবহার করে তিনি শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ। মানি লন্ডারিংয়ের মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে।
এএইচ




