প্রায় আড়াই বছর পর বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কীভাবে গ্রেফতার হলেন সাবেক আইজিপি সেই বিষয়ে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। তারা জানিয়েছেন, বেনজীর লন্ডন থেকে দুবাইয়ে এসেছিলেন। সেখানে বিমানযোগে আসার পর ট্রানজিট নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় তার অবস্থান ধরা পড়ে বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরায়। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পরপরই তার ব্যাপারে ক্যামেরা তথ্য পাঠায় বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের কম্পিউটারে। তখন সেই বার্তা চলে যায় দুবাই এয়ারপোর্ট পুলিশের কাছে। দ্রুত তারা তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করেন। তাকে ধরার পর দেশটিতে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে প্রবেশ করার দায়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদক অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের দায়ে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতারের জন্য দুদক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহায়তা চেয়েছিল।
তবে তাকে গ্রেফতারের খবরটি প্রথমে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ইমেইল পাঠানো হয় বাংলাদেশ সরকারকে। সেই মেইলে তারা তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে পুলিশি হেফাজতে আছেন।
তাকে কবে ফেরত আনা হবে তাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুদকের মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুতই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
উল্লেখ্য, তাকে গ্রেফতারের জন্য গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল।
এমআইকে/এফএ




