শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

আদ্-দ্বীন পরিস্থিতি: বিভ্রান্ত রোগীরা ছুটছেন আশেপাশের হাসপাতালে

মাহফুজ উল্লাহ হিমু
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

আদ্-দ্বীন পরিস্থিতি: বিভ্রান্ত রোগীরা ছুটছেন আশেপাশের হাসপাতালে

নিবন্ধন বাতিলের এক দিন পর অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী সেবা চালু থাকলেও বন্ধ রয়েছে নতুন রোগী ভর্তি। হাসপাতাল বন্ধের খবরে আতঙ্ক বিরাজ করছে ইতোমধ্যে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে। ফলে অনেকেই চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই হাসপাতাল ছাড়ছেন। তেমনই একজন রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ নাজুমুন্নাহার। ছয় দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই রোগীর ডায়ালাইসিস চলছিল। তবে নিবন্ধন বতিলের নির্দেশের পর চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কায় হাসপাতাল ছাড়ছেন তিনি।

নাজমুন্নাহারের ছেলে নুরুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘সেবার মান ও কম খরচের চিন্তা করে বহু বছর যাবত এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এবারও আম্মাকে ডায়ালাইসিসের জন্য এখানে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শুনে চলে যাচ্ছি।’ কোথায় যাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনও ঠিক করিনি। দেখি কোথায় যাওয়া যায়, ভাবছি কিডনি ইনস্টিটিউটে যাবো।’


বিজ্ঞাপন


খালেদা আক্তার নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘এত বড় একটা হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে আমরা যাবো কোথায়? সরকারি হাসপাতাল কি চিকিৎসা দেয় তা তো আপনারা জানেনই। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ কম খরচে ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে আসি, এটাও নাকি সরকার বন্ধ করে দেবে।’  

 

রোগী বাঁচাতে হাসপাতাল বন্ধ করা কেমন সিদ্ধান্ত এই প্রশ্ন তুলে খালেদা বলেন, ‘হুট করে হাসপাতাল বন্ধ করে দিছে। আমার রোগী আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ভর্তি, এখন আমি কোথায় যাবো?’


বিজ্ঞাপন


হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে বর্তমানে মোট ২৪৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৫০ জন, আইসিইউ ও এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) ১৩ জন এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ছয়জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশনায় সাধারণ রোগীরা হাসপাতাল ছাড়লেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মূলত এসব মুমূর্ষু রোগী।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও রোগীরা কোথায় যাবে সেই বিষয়ে ভর্তি রোগীদের কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কোথাও রেফারও করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

জাকিয়া সুলতানা নামে রোগীর স্বজন বলেন, ‘শুনেছি হাসপাতাল ছাড়তে হবে। কিন্তু কোথায় যাবো সে বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। হাসপাতাল থেকে তো অসুস্থ ছাড়া রোগী ছাড়লে কিছু বলে দেয়। কিন্তু আমরা কিছুই জানি না।’ 

48558

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক (প্রসাশন) তারিকুল ইসলাম মুকুল ঢাকা মেইলকে বলেন, সরকার বলেছে আদ্-দ্বীনের আরও কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে এবং রোগীরা সেখানে যেতে পারবেন। কিন্তু আমাদের সবখানে সব সেবা নেই। যেমন, নবজাতকদের জন্য থাকা এনআইসিইউ সুবিধা শুধুমাত্র মগবাজার হাসপাতালেই রয়েছে। আদ্-দ্বীনের অন্য কোনো হাসপাতালে এ ধরনের বিশেষায়িত ইউনিট না থাকায় রোগীদের সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।’ 

তবে তারা রোগীদের সেবা বঞ্চিত করবেন না জানিয়ে বলেন, ‘সরকার রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেনি। তাই বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সেবা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের দায়িত্ব। তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ নেই।’ 

হতবিহ্বল কর্মীরা
এদিকে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা, সাংবাদিকদের ওপর হামলাসহ নানা কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা হাসপাতালটির কর্মীরাও বিভ্রান্ত রয়েছে। নিবন্ধন বাতিলের পর অনেকটা হতবিহ্বল অবস্থায় রয়েছে তারা।  

নিবন্ধন বাতিলের পরদিন স্বাভাবিকভাবে কাজে এসেছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা। তবে হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে নিশ্চুপ তারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘অনেক সমস্যা চলছিল জানি। কিন্তু এভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, এটা ভাবিনি। কর্তৃপক্ষ আপিল করবে জানিয়েছে, দেখি কী হয়। রোগী আছে, তাই আমরা আমাদের মতো কাজ করছি।’ 

এদিকে নিবন্ধন বাতিলের সংবাদ সারাদেশে অত্যন্ত আলোচিত বিষয় হওয়ায় সরজমিনে ভর্তিচ্ছু রোগীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে লক্ষ্য করা যায়নি। বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ সেবাও।

এমএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর