বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

১২-১৫ বছর বয়সীদের হজ ভিসা নিয়ে জটিলতা, বিপাকে এজেন্সিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

Hazz
সৌদি আরবের কড়াকড়িতে বিপাকে এজেন্সি মালিকরা। ছবি: সংগৃহীত

হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের হজ ভিসা নিয়ে জটিলতায় পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বয়সসীমা ও যাচাই-বাছাইসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে অনেক আবেদনই প্রত্যাখ্যাত (রিজেক্ট) হচ্ছে। এতে একদিকে ভোগান্তি বাড়ছে অন্যদিকে লোকসানের মুখে পড়েছেন ট্রাভেলস মালিকরা।

গত শনিবার (২ মে) সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, ২০২৬ সালের ৩ মে থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা হজ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট সকল অপ্রাপ্তবয়স্ক হজযাত্রীর ভিসা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল। তবে সেদিনই কয়েক ঘণ্টা পর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সৌদি আরব। দেশটি জানায়, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ বছরের ঊর্ধ্বে সবাই হজে অংশ নিতে পারবে।


বিজ্ঞাপন


তবে সৌদি আরব ঘোষণা দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় সেটার প্রতিফলন ঘটছে না। ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ভিসা বারবার প্রত্যাখ্যান হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো।

ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতার কারণে যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে।

হজ ও উমরাহ যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত নীড় ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মাওলানা আবদুল গাফফার খান জানান, সরকার এবার হজের যে প্যাকেজ ও গাইডলাইন তৈরি করেছে সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ১২ বছরের ঊর্ধ্বে যে কেউ হজে যেতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে ১২ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

১৫ বছরের কমে হজ নয়, কয়েক ঘণ্টা পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সৌদির

ফ্লাইট মিস করলে টাকা ফেরত পাবেন হজযাত্রীরা, যদি...

মাওলানা আবদুল গাফফার খান বলেন, এতে আমরা ট্রাভেলস ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষকে একটি ডিও লেটার দিলে বিষয়টি সুরাহা হতে পারতো। কিন্তু সরকারের এমন কোনো উদ্যোগের কথা আমরা জানি না। 

এদিকে হজ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিসা ইস্যু, যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

তবে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি, হঠাৎ করে নীতিগত পরিবর্তন ও বয়সসংক্রান্ত কঠোর যাচাইয়ের কারণে অনেক আবেদন বাতিল হচ্ছে, ফলে বুকিং ও প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন ট্রাভেলস মালিকরা।

এ বিষয়ে এখনো সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা নতুন কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর