জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি চুক্তিটিকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন এবং প্রয়োজন হলে তা বাতিলের আহ্বান জানান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রস্তাব করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সংস্কারের প্রসঙ্গ ছিল।
তিনি বলেন, এই চুক্তির পেছনে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তি দেখানো হলেও বাস্তবে এটি দেশের জন্য কতটা লাভজনক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওই সময় দেশের বিভিন্ন সুশীল সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি করার নৈতিক অবস্থানে থাকে না। কিন্তু এসব মতামত উপেক্ষা করে চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, চুক্তিতে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। তিনি বিষয়টি সংসদে আনতে এবং প্রয়োজন হলে বাতিল করার দাবি জানান।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। কার্যপ্রণালি বিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী, পয়েন্ট অব অর্ডার অবশ্যই সংসদের চলমান কার্যক্রম বা শৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে।
স্পিকার বলেন, রুমিন ফারহানা একটি নতুন ও নীতিগত বিষয় উত্থাপন করেছেন, যা পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জবাবে রুমিন ফারহানা আরও সময় চেয়ে বলেন, সরকার চাইলে এই চুক্তি বাতিল করতে পারে। অন্তত এটি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
তবে, স্পিকার তার এই প্রস্তাব পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
টিএই/এমআই




