সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে: চিফ হুইপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

Perlament
জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। ছবি: ঢাকা মেইল

সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে- এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। তাই দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ হুইপ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং কামার, কুমার, তাঁতি, স্বর্ণকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি আপনার ভাই কাজ না পায় এবং প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্থকতা কোথায়? মানুষের জীবনের প্রথম মৌলিক চাহিদা হলো অন্ন। এই চাহিদা পূরণের জন্যই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস থাকা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে এবং সামাজিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, তবে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী, কারো জীবনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’


বিজ্ঞাপন


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ শাসনামলে এ দেশের মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সেই সময় বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। বাকশালের সেই অন্ধকার সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে তিন বছরের মাথায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে পুনর্গঠনের কাজ করেছেন। কিন্তু বিগত দেড় দশকের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে আবারও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। ২৭ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হওয়ার ফলে অর্থনীতি এখন এক ভঙ্গুর অবস্থার মুখে দাঁড়িয়েছে।’

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংসদ সংবিধানের ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৫৩টি আর্টিকেলের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের ভিত্তিতেই শপথ নিয়েছে। কিন্তু জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই সংবিধান সংশোধন করার বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত মেনে চলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন যাদের সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে শিখতে আরও কয়েকটা অধিবেশন সময় লাগবে। তবে বিরোধীদের মধ্যেও অনেক চৌকস ও শিক্ষিত সদস্য আছেন। তাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদের আলোকে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেব।’

চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বলেন, ‘মাত্র দুই মাস ১২ দিন বয়সে সরকার প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের ওপর কাজ করা একটি অসম্ভব কাজ ছিল, যা এই সরকার করে দেখিয়েছে। সরকারপ্রধান সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।’ 

সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সাংবাদিকদের কল্যাণে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমানে নবম ওয়েজ বোর্ড চলমান থাকলেও মালিকপক্ষের মামলার কারণে এটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে পারছে না। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ও গণতন্ত্র ভালো থাকবে।’

হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘গণমাধ্যমকে ইতোপূর্বেই শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা পায়নি। শিল্পের যথাযথ মর্যাদা না পাওয়ার কারণে অনেক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

হুইপ দুলু জানান, সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে নিয়মিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান, সাংবাদিকদের জন্যও সেই মানের বেতন কাঠামো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত। আমি সবসময় সাংবাদিকদের আপন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। কোনও সাংবাদিক শেষ জীবনে অর্থকষ্টে বা বিনাচিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করে মৃত্যুবরণ করুক এটা আমরা চাই না।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একটি সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা মাইলফলক হয়ে থাকবে। গণতন্ত্রের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের কার্যালয় সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।’

সভায় পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, ‘সমাজে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত না হলে গুজব ডালপালা মেলবে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও ছাপিয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই যেকোনো বিষয় প্রচার করার সুযোগ থাকায় সঠিক সংবাদ জানতে মানুষকে এখনো মূলধারার গণমাধ্যমের ওপরই নির্ভর করতে হয়। তিনি বলেন, তথ্যের যত অবাধ প্রবাহ থাকবে সমাজে গুজব তত কমবে। তথ্যের প্রবাহ যদি ঠিক না থাকে তাহলে গুজব ডালপালা মেলবে।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিঞা প্রমুখ, পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব শওকত আলী খান প্রমুখ।

টিএই/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর