সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রাত পোহালেই কৃষকের হাতে ‍উঠছে কার্ড, কারা কোথায় পাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

Card
কৃষক কার্ড। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয়ভাবে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তারই অংশ হিসেবে আজকের রাত পোহালেই মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিনে দেশের ১০ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে ‘কৃষক কার্ড’। 

জানা গেছে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেবেন। 


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষক সমাজের সরাসরি ক্ষমতায়নের লক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি। কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষেই এ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ আরও বেশকিছু সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। দরিদ্র কৃষকদের এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

কিন্তু কৃষক কার্ড কারা পাবেন? কোথায় কবে দেওয়া হবে? 


বিজ্ঞাপন


সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। এসব কৃষকদেরকে ‘ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় কৃষক’ - এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে পাঁচ শতকের কম জমি রয়েছে যাদের, তাদেরকে ফেলা হচ্ছে ভূমিহীন ক্যাটাগরিতে। পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক যেসব কৃষক, তারা পড়ছেন প্রান্তিক শ্রেণিতে। এর বাইরে, কৃষকদের মধ্যে যারা ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক, তারা ক্ষুদ্র এবং যারা ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতকের মালিক, তারা মাঝারি কৃষকের শ্রেণিতে পড়ছেন। অন্যদিকে, যাদের জমির পরিমাণ ৭৫০ শতকের বেশি, তাদেরকে বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জনই ভূমিহীন। বাকিদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক, ৮ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক, এক হাজার ৩০৩ জন মাঝারি কৃষক এবং ৯১ জন বড় কৃষক। 

তালিকায় এগিয়ে ভূমিচাষিরা

পহেলা বৈশাখে যে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই ভূমিচাষি বলে জানা যাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কার্ড পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন।

তবে সংখ্যায় অংল্প হলেও কার্ডধারীদের তালিকায় মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি এবং লবণচাষিদেরও নাম রয়েছে। এর মধ্যে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা প্রায় ৮৫৫ জন। এছাড়া ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং তিনজন লবণ চাষিও রয়েছেন।

বাস্তবায়ন হবে তিন ধাপে

কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচিকে তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে এখন চলছে প্রি-পাইলটিং বা প্রাক- পরীক্ষামূলক ধাপ। এর আওতায় দরিদ্র কৃষকের সংখ্যা বেশি এমন ১০টি জেলার ১১টি উপজেলা অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

প্রি-পাইলটিং ধাপে ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। এই ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে শুরু হবে পাইলট বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। কৃষকদের মধ্যে যে উদ্দেশে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে, সেটি ঠিকমত কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রথম ধাপে যেসব এলাকা

প্রি-পাইলটিং ধাপের কৃষকের তালিকা তৈরি শেষে কার্ড বিতরণ করা হবে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে। সেগুলোর একটি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক। বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

অন্য জেলাগুলোর কৃষি ব্লকের মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ও বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এছাড়া রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক, মৌলভিবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকেও ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এদিন কার্ড দেওয়া হবে না কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে। এলাকাটিতে আগামী ১৭ই এপ্রিল কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

কার্ড পেলে কী সুবিধা?

সাধারণ কৃষকদের তুলনায় কার্ডধারী কৃষকরা বাড়তি কিছু সুবিধা পাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ প্রদানের সুবিধা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রাপ্তি।

এছাড়া মোবাইল ফোনে সহজে বাজারের তথ্য ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিমা সুবিধার পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে, সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের পাশাপাশি কৃষিতে সরকারি বিভিন্ন ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থও কৃষকের জন্য পাওয়া সহজ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।

সবাই টাকা পাবেন?

কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে বছরে অন্তত আড়াই হাজার নগদ টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে কার্ডধারীদের সবাই এই সুবিধা পাবেন না। কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকরা এই সুবিধার আওতাধীন হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।

প্রাথমিকভাবে যে ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জনই ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক। ফলে তারা সবাই প্রতিবছর ওই টাকা পাবেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় এসব কৃষকদের কার্ডের বিপরীতে একটি করে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে প্রতিবছর টাকা পাঠানো হবে। ফলে কার্ডটি আদতে একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহার হবে।

কৃষকদের এই অর্থ সহায়তাসহ সব মিলিয় প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ব্যয় করার জন্য প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর