বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হকারদের সরালেও ভোগান্তি কাটেনি গুলিস্তানের ফুটপাতে

মোস্তাফিজুর রহমান
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

Dhaka Gulistan
সরে গেলেও হকাররা তাদের অবকাঠামো সরিয়ে নেননি। ফলে পথচারীদের অবাধ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছেই। ছবি: ঢাকা মেইল

‎ঢাকা মহানগর পুলিশের অভিযানে পাল্টে গেছে রাজধানীর গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতের চিত্র। এই এলাকা এতোদিন হকারদের দখলে থাকলেও এখন অনেকটাই ফাঁকা। যদিও কিছু জায়গা এখনও দখলমুক্ত হয়নি। অনেকে ফুটপাতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরে গেলেও হকাররা তাদের অবকাঠামো সরিয়ে নেননি। ফলে পথচারীদের অবাধ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছেই।

‎বুধবার (১ এপ্রিল) গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকা সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। পথচারীদের হাঁটাচলায় স্বস্তি ফিরছে। 

তবে হকাররা তাদের অবকাঠামোগুলো ফেলে রেখেছেন। কোথাও কোথাও অবকাঠামোগুলো স্তূপ করে ফুটপাতই বন্ধ রেখেছেন। আবার কোথাও ফুটপাতে বসেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। ফলে এখনও পুরোপুরিভাবে অভিযানের সুফল পাচ্ছেন না পথচারীরা।  


বিজ্ঞাপন


Gulistan_v
গুলিস্তানের ফুটপাত এখনও হকারদের দখলে। ছবি: ঢাকা মেইল

 

‎গুলিস্তান মোড় থেকে মাজার রোডটি এতোদিন পুরোপুরি হকারদের দখলে ছিল। এখন পুরো রাস্তাই ফাঁকা। তবে রাস্তার দুই পাশেই কিছু হকার বসে গেছেন। বিশেষ করে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সামনে বেশকিছু হকার ফুটপাত দখলে নিয়ে ফলের দোকান বসিয়েছেন।


‎গুলিস্তান মোড়ে নতুন টাকা বিক্রি করা হকাররাও জটলা বাঁধিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুলিস্তান সুপার মার্কেটের সামনেও কিছু হকার নতুন করে বসেছেন। ‎ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটের পশ্চিম পাশের ফুটপাত এখনও হকারদের দখলে। ফুটপাতটি নিজেদের দখলে রেখে কেউ কেউ ব্যবসাও চালাচ্ছেন। 

‎সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে ফ্লাইওভারের নীচের ফুটপাত দখলে রেখে জুতার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। এদিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও স্টেডিয়ামের আশপাশের ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও তাদের অবকাঠামোর দখলমুক্ত হয়নি। দুয়েকজন হকারও তাদের ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন।  

Gulistan_iv
‎সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে ফ্লাইওভারের নীচের ফুটপাত দখলে রেখে জুতার ব্যবসা। ছবি: ঢাকা মেইল



‎নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে কর্মস্থলে যাচ্ছেন মাজহারুল ইসলাম। গুলিস্তানে তার নিয়মিত যাতায়াত হয়। সড়ক ও ফুটপাতের বুধবারের (১ এপ্রিল) পরিস্থিতি দেখে খুশি হন তিনি। তবে ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভও আছে তার। 

‎বাইতুল মোকাররমের সামনে কথা হলে মাজহার বলেন, ‘এতোদিন রাস্তাই দখলে ছিল। আজ মুক্ত দেখে ভালো লাগছে। কিন্তু হকারদের খাট ছাউনি সবই রেখে দিয়েছেন। সুযোগ বুঝে আবার দখল নেবেন বলেই মনে হচ্ছে। আগেও এমন বহুবার দেখেছি। এবার কী হয় সেটাই দেখার বিষয়।’ 

‎এই পথচারীর মতো আরও অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাবে। দখল প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সেদিকে নজর রাখার কথাও বলেছেন।

28607
গুলিস্তানের ফুটপাতের সব জায়গা এখনও হকারদের দখলমুক্ত হয়নি। ছবি: ঢাকা মেইল



‎কথা হলে পুরান ঢাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু দখল মুক্ত রাখা কঠিন। আগেও দেখেছি সরিয়ে দিতে। কিন্তু অভিযানেরই দিন আবার দখল হয়ে যেতেও দেখেছি। এর মূল কারণ অভিযান চালানোর পর আর কারও নজর থাকে না।’
‎ 
ঢাকা ট্রেড সেন্টারের পশ্চিম পাশের ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের নীচে হকারদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখিয়ে সাজ্জাদ আরও বলেন, ‘আজই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে কাল কী হবে। পরশুইবা কেমন হবে। এগুলো সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে হবে। অন্যথায় হকাররা বসেই যাবে।’ 

Gulistan_vi
পুলিশের অভিযানের পর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান অনেকটা ফাঁকা। ছবি: ঢাকা মেইল 


‎ 
‎এর আগে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

এএম/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর