ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীমুখী ট্রেনগুলোতে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মজীবীরা ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন, ফলে রেলপথে দেখা যাচ্ছে বাড়তি ভিড় ও ব্যস্ততা।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাচ্ছে রাজধানী। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মজীবীরা ঢাকায় ফিরছেন।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন-এ ছিল ঢাকামুখী মানুষের ঢল। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ অবস্থায় রাজধানীতে পৌঁছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকার স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা পুরোপুরি ফিরে আসবে।
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহ থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ হাসান বলেন, ‘ঈদটা পরিবারের সঙ্গে ভালোই কেটেছে। আজ সকালে ট্রেনে উঠে দুপুরের আগেই ঢাকায় পৌঁছে গেছি। ভিড় ছিল, তবে যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিরই ছিল।’
রাজশাহী থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছিলাম, তাই একটু সুবিধা হয়েছে। ট্রেনে ভিড় ছিল অনেক, দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে কিছুটা পথ। তারপরও সময়মতো পৌঁছাতে পেরে ভালো লাগছে।’
খুলনা থেকে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ট্রেনেই আসতে স্বাচ্ছন্দ্য লাগে। যানজটের ঝামেলা নেই। যদিও ভিড় বেশি ছিল, তবুও নির্দিষ্ট সময়েই ঢাকায় পৌঁছেছি।’

এদিকে ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে স্টেশনে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট থাকলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তবে বিনা টিকিটে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আফতাব জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ তিনটি টিকিট কেটে থাকলেও যাত্রী সংখ্যা চারজন হলে নির্ধারিত ভাড়ায় অতিরিক্ত একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রায় ও ফেরার পথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য প্রবেশের সময় দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
এম/এমআই
