মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদের ছুটি শেষে কর্মমুখর ঢাকা, ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদের ছুটি শেষে কর্মমুখর ঢাকা, ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
সকাল থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ছবিটি রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে তোলা। - ঢাকা মেইল

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রথম কর্মদিবস। সকাল থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খুলেছে সচিবালয়সহ সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

অফিসে যোগ দিতে সকাল থেকে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। গাবতলী এলাকায় সকাল থেকেই উত্তরাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলো থেকে নামতে দেখা যায় কর্মমুখী মানুষজন। বাস থেকে নেমে সিএনজি, পাঠাও কিংবা লোকাল বাসে করে সরাসরি বাসা অথবা কর্মস্থলে চলে যাচ্ছেন তারা।


বিজ্ঞাপন


বগুড়ার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরেছেন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আজিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস আজ। অফিসে যোগদান করতেই হবে। যেহেতু সরকারি চাকরি করি, কোনো মাফ নেই। আমি অফিসের বড় কর্মকর্তা, এ কারণে বাড়তি ছুটি নিতে পারিনি। দেরি হয়ে গেছে ঢাকায় ফিরতে, তবে সরাসরি অফিসে যাচ্ছি।’

কথা শেষে তিনি একটি পাঠাও চালককে ডেকে মোটরসাইকেলে করে শ্যামলীর দিকে রওনা হন।

653507605_1703397403981454_473469480822137639_n


বিজ্ঞাপন


রংপুর থেকে ফিরেছেন শবনম। তিনি মিরপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঢাকায় নেমে ভাড়া নিয়ে দরদামের পর সিএনজিতে করে গন্তব্যে যান। লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়ি থেকে সাবিনা ও তিষি দুই বোন ফিরেছেন তাদের দুই ভাগিনা-ভাগিনিকে নিয়ে। তারাও প্রাইভেটকার ডেকে চলে যান।

সকাল থেকেই গাবতলীতে যাত্রীদের ভিড় ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কমতে শুরু করেছে। কাউন্টারগুলো সূত্র জানিয়েছে, সকালে ঢাকায় ফেরা লোকজনের বেশ চাপ ছিল। বিকেল থেকে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

ঈদের আগে গ্রামের পথে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যেমন ছিল, ফেরার পথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে গাবতলীতে ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, বাড়তি ভাড়া না দিলে টিকিট মেলেনি। কর্মস্থলে যোগ দিতে বাধ্য হয়ে তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফিরেছেন।

গ্রিন লাইনের (ননএসি) বাসে পাবনা থেকে ফিরেছেন জিয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া তো নিয়েছে। আগে স্বাভাবিক সময়ে বাসের ভাড়া বড়জোর ৫৫০ টাকা। কিন্তু আজ আসলাম ৮০০ টাকায়। সরকার শুধু বলে বাসগুলো কম ভাড়া রাখছে। ঈদের পর কেমন ভাড়া নেওয়া হলো, সরকারের এটার ব্যাপারেও নজরদারি থাকা দরকার।’

মানিক এক্সপ্রেসের (এসি) বগুড়া থেকে আসা জামিনুল ইসলাম জানান, ‘ঢাকা থেকে অন্য সময়ে তার ভাড়া লাগত ৮০০ টাকা। আজ দিতে হয়েছে ১২০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময়ে বাসগুলো বাড়তি ভাড়া নেবে না, এটা কি কল্পনা করা যায়? আগে হাজার টাকায় আসতে পারতাম, আজ আসলাম ১ হাজার ২০০ টাকায়। ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে। এ জুলুমের কথা কাকে বলব? আমরা তো অসহায়। যাওয়া ও আসার দুই সময়ই আমাকে বাড়তি ভাড়া দিতে হলো।’

655928549_917083524550499_3000402901135143959_n

পাবনা থেকে ফিরেছেন শাহীনুর। তিনি বলেন, ‘তার কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়নি। তবে লালমনিরহাট থেকে আসা তুষি জানান, তার কাছেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব বলে কি লাভ হবে! এ রাষ্ট্র কি পারবে এসব অন্যায় জুলুম বন্ধ করতে? আমাদের এগুলো দিনের পর দিন মেনে নিয়ে চলতে হবে।’

পাবনা থেকে মতিন ট্রাভেলসে ফিরেছেন ফয়েজ মিয়া। স্ত্রী, দুই সন্তান ও শ্যালক নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়া বেশি রাখা হইছে। আমরা বেশি ভাড়া না দিলে তারা টিকিট দিতে চায় না। বাধ্য হয়ে পাঁচজনের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকায় টিকিট কিনতে হয়েছে।’

গত ২১ মার্চ (শনিবার) সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের জন্য গত ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। তবে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পর ফিরবেন।

এমআইকে/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর