শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করছে সরকার
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই এসব কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এবং যাত্রীসেবায় দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 


বিজ্ঞাপন


বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর বনানীস্থ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ১৬ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এই কন্ট্রোল রুম থেকে সারাদেশের সড়ক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীরা ১৬১০৭ হটলাইনসহ নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাচ্ছেন।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ৯টি বিশেষ মনিটরিং টিম দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে কাজ করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ ১৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং গুগল ম্যাপের লাইভ ডাটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রেখে যাত্রীবাহী পরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম সড়ক সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গাজীপুর এলাকায় যানজট কমাতে বিআরটি ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করা ও সড়কে আলোকায়ন জোরদার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালু করেছে এবং স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানো ও হেডওয়ে কমানোর মাধ্যমে নগর যাতায়াতে স্বস্তি আনা হয়েছে। ফেরিঘাট ও টোল প্লাজায় ইটিসি বুথ বাড়িয়ে দ্রুত যান পারাপারের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যেই এসব উদ্যোগের সুফল দেখা যাচ্ছে। পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় বিকল ট্রাক দ্রুত সরিয়ে বড় ধরনের যানজট এড়ানো হয়েছে। চন্দ্রা, কড্ডা ও কোনাবাড়ি এলাকায় বিকল্প রুট চালু রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের তারাবো সড়কে ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করে যানচলাচলে গতি আনা হয়েছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন রুটে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য আসন নিশ্চিত করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রয়েছে।

সবমিলিয়ে, সরকারের সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে এবারের ঈদযাত্রা আগের তুলনায় আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমআর/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর