শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শিগগিরই প্রশাসনে বড় রদবদল: ‘পছন্দের’ কর্মকর্তা খুঁজছেন মন্ত্রী-এমপিরা

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

শিগগিরই প্রশাসনে বড় রদবদল: ‘পছন্দের’ কর্মকর্তা খুঁজছেন মন্ত্রী-এমপিরা
শিগগিরই প্রশাসনে বড় রদবদল: ‘পছন্দের’ কর্মকর্তা খুঁজছেন মন্ত্রী-এমপিরা
• মাঠ প্রশাসনে তোড়জোড়: মন্ত্রী-এমপিদের পিএস হতে তদবির!
• শীর্ষ পদে নতুন মুখ: সচিব পদেও আসছেন নতুনরা
• চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের হিড়িক
• নিয়োগ-পদায়নে মেধার মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপির

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পাওয়া বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন সর্বত্রই রদবদলের হাওয়া। ইতোমধ্যে সচিব থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে নতুন নতুন মুখ আসছে।


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পেতে চেষ্টা করছেন। আবার এসব পদে যেতে আগ্রহীদের ব্যাপারে মন্ত্রী-এমপিরা খোঁজখবরও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারেরপতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। সেই সময় বহু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর ও ওএসডি করা হয়। এখন নির্বাচিত নতুন সরকার এসে পুনরায় প্রশাসনকে নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে।

এতে অবশ্য অনেক কর্মকর্তার মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তাদের মধ্যে এই আতঙ্ক দিনদিন বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রদবদল একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং ঈদের আগে-পরে মাঠ প্রশাসনে আরও বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ও নতুন নিয়োগ

সরকার গঠনের পর জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে এ বি এম আবদুস সাত্তারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তার আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিদায় নেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ ও সাবেক মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।

এদিকে, গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে গুরুত্বপূর্ণ চার মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আব্দুল খালেক, স্থানীয় সরকার বিভাগে মো. শহীদুল হাসান এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে রফিকুল আই চৌধুরী। 

নতুন সচিব হওয়া চার কর্মকর্তাকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Secreteryet

একযোগে ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল ও ৩ সচিব ওএসডি

এদিকে প্রশাসনে গতি আনতে একযোগে ৯ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। চুক্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান, এস এম আকমল হোসেন ও কাইয়ুম আরা বেগম, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনকে ওএসডি করা হয়েছে।

৫ জেলার ডিসি প্রত্যাহার ও মাঠ প্রশাসনে পরিবর্তন

গত ১ মার্চ (রোববার) ৫ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা কর্মকর্তারা হলেন- গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। শীঘ্রই এসব শূন্য পদে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকারকে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর পিএস, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) আলমগীর হোসেনকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রীর পিএস এবং বাহুবল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য তাদের পিএস নিয়ে ফেলেছেন। 

অভিযোগ আছে, নতুন মন্ত্রীদের দফতরে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বনে গেছেন। কেউ আবার বিএনপির পরিচিত নেতাদের মাধ্যমে মন্ত্রী-এমপিদের পিএস পদে নিয়োগ পেয়েছেন ইতোমধ্যে।

গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, অনেকেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করতে চান। কিন্তু নিয়োগের আগে দফায় দফায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পলিটিক্যাল খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে দক্ষ আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই। তবে অতীতের মতো ঢালাও ‘দলীয়করণ’ না করে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া গেলে ইতিবাচক ফল আসবে।

নিয়োগ ও পদায়নে যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে চায় বিএনপি

এদিকে আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসনের পদে পদে দলীয়করণ করেছে এমন জোরালো অভিযোগ আছে। গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন কিংবা আওয়ামী ঘরোনার লোকজন অগ্রাধিকার পেতেন। জনপ্রশাসনে যা ছিল অনেকটা ওপেন-সিক্রেট।

তবে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।

অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে দক্ষ, প্রশাসনে সুনাম আছে এমন কর্মকর্তাদের যুক্ত করতে চায় বিএনপি।

ইতোমধ্যে প্রশাসনের শীর্ষ পদ অর্থাৎ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে এ বি এম আবদুস সাত্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হলে দক্ষ আমলাতন্ত্রের বিকল্প নেই। তবে অতীতের মতো ঢালাও ‘দলীয়করণ’ না করে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া গেলে ইতিবাচক ফল আসবে।

বিইউ/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর