সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

রোজায় দিনে পাঠক কম, রাতে জমে বইমেলা

মাহফুজুর রহমান
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

রোজায় দিনে পাঠক কম, রাতে জমে বইমেলা
রোজায় দিনে পাঠক কম, রাতে জমে বইমেলা। ছবি: সংগৃহীত

রমজানের কারণে দিনে পাঠক সমাগম কম হলেও ইফতারের পর বাড়ছে ভিড় বইমেলায়। সোমবার (২ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

রমজানের সংযমী আবহের মধ্যেও বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর রয়েছে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। দিনের বেলায় ক্রেতা-পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ইফতারের পরপরই ভিড় বাড়ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায়। প্রকাশকদের আশা, মাসের শেষদিকে বিক্রির গতি বাড়বে এবং কাটবে শুরুর মন্দাভাব।


বিজ্ঞাপন


পাঠকরা বলছেন, রমজান হলেও বইমেলা তাদের কাছে অন্যরকম আনন্দের জায়গা। প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন বইয়ের খোঁজে তারা আসছেন। কেউ ইফতারের আগে অল্প সময়ের জন্য ঘুরে যাচ্ছেন, আবার অনেকে নামাজ ও ইফতার শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন মেলায়।

image

মোহাম্মদপুর থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘রমজানের কারণে দিনে ক্লাস ও অন্যান্য কাজ থাকে, তাই ইফতারের পরই মেলায় আসতে সুবিধা হয়। ভিড় একটু বেশি থাকলেও পরিবেশটা তখন বেশি প্রাণবন্ত লাগে।’


বিজ্ঞাপন


মিরপুরের বাসিন্দা চাকরিজীবী মাহবুব রহমান বলেন, ‘রোজার দিনে রোজা থেকে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করা কঠিন। তাই নির্দিষ্ট প্রকাশনীর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। তবে ইফতারের পর সময় সীমিত থাকায় সব স্টল ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না।’

book_fair_dhakamail

নতুন বইয়ের রঙিন মলাট যেমন পাঠকের কৌতূহল জাগায়, তেমনি এর পেছনে থাকে প্রকাশকদের বিনিয়োগ ও বিক্রির হিসাব। শব্দের এই উৎসবের আড়ালে তাই লাভ-লোকসানের অঙ্কও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশকদের ভাষ্য, রমজানের কারণে বিকেলের আগে মেলায় ভিড় কম থাকায় বিক্রির গতি প্রত্যাশামাফিক নয়। ইফতারের পর ভিড় বাড়লেও সময় স্বল্পতার কারণে সেই ভিড় পুরোপুরি বিক্রিতে রূপ নিচ্ছে না।

একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বিকেলের আগে স্টলে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। ইফতারের পর হঠাৎ করে চাপ বেড়ে যায়, কিন্তু রাতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই ভিড় সামাল দিয়ে প্রত্যাশিত বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

আরেক বিক্রেতা নুসরাত জাহান জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা ধীর। তবে সপ্তাহান্তে এবং শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাঠকের আগ্রহে ঘাটতি নেই; সময় ও সুযোগের সীমাবদ্ধতাই মূল চ্যালেঞ্জ।

8f56f299-bbfd-4582-83d3-85cb578249dd

প্রকাশনা সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছিল ৩ হাজার ৭৫১টি এবং মোট বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবারের শুরু কিছুটা ধীরগতির। তবে মাসের শেষভাগ ও ছুটির দিনে পাঠকের উপস্থিতি বাড়লে বিক্রির চিত্রও বদলাতে পারে বলে তারা আশাবাদী।

এম/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর