অমর একুশে বইমেলা শুরুর দ্বিতীয় দিন শুক্রবারও (২৭ ফেব্রুয়ারি) অগোছালো রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। সেইসঙ্গে অপরিচ্ছন্ন রয়েছে বইমেলার পরিবেশ। শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এখনও চলছে স্টল নির্মাণের কাজ। কিছু স্টলে নেই বই, আবার কিছু স্টলে রয়েছে অল্পসংখ্যক বই। বইমেলা প্রাঙ্গণও রয়েছে অগোছালো। ময়লাযুক্ত পরিবেশ রয়েছে বইমেলায়। ধুলাবালু উড়ছে। গাছের পাতা এবং পলিথিন-কাগজ পড়ে আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে।
বিজ্ঞাপন
এ বছর প্রথমবারের মতো বইমেলায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান জামিল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলায় আজ মানুষ অনেকটা কম দেখেছি। তবে মেলায় ঢুকতেই ধুলোবালি, ময়লা-আবর্জনা, গাছের পাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এসব দেখে খারাপ লাগছে। মেলা শুরুর আগেই এসব শেষ করা উচিত। প্রতিবারই দেখা যায় মেলা শুরুর প্রথম সপ্তাহজুড়ে কাজই চলতে থাকে। মেলার ভেতরে যে পরিমাণ ধুলোবালি উড়ছে তাতে এখানে আসা মানুষদের ঠাণ্ডা-কাশি হয়ে যাবে।
আরেক দর্শনার্থী মঈনুল ইসলাম বলেন, এবারের পরিবেশ বেশ অগোছালো। বইমেলা প্রাঙ্গণ হওয়া উচিত পরিপাটি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের জন্য বিরক্তিকর।
এছাড়া বেশিরভাগ স্টলই ক্রেতাশূন্য। তবে জনপ্রিয় প্রকাশনীগুলোর স্টলের সামনে পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তাদের কেউ নতুন বই উল্টেপাল্টে দেখছেন, পছন্দ হলে কিনছেনও।
এবারের বইমেলায় অংশ নিয়েছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা এক হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
বিজ্ঞাপন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় রয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে আছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ পালন করা হবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতারও আয়োজন রাখা হয়েছে, যা ছোটদের সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
এবারের বইমেলা নানা সমীকরণে কিছুটা সংক্ষিপ্ত—মোট ১৮ দিনের আয়োজন। রমজান মাসের কারণে দর্শনার্থী উপস্থিতি ও বই বিক্রি নিয়ে শুরুতে দুশ্চিন্তা থাকলেও প্রথম দিনের বেচাকেনায় আশার আলো দেখছেন প্রকাশকরা। যদিও এখনও প্রায় ৪০ শতাংশ স্টলের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে প্রাণের উৎসব।
এসএইচ/ক.ম

