পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলী হোসেন ফকির। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বিকম অনার্স, এমকম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগদান করেন।
বিজ্ঞাপন
কর্মজীবনে আলী হোসেন ফকির অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ডিআইজি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিআইজি এসপিবিএন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ডিএমপিতে উপ-পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার হিসেবে নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলায়, কমান্ড্যান্ট আরআরএফ সিলেট এবং অধিনায়ক হিসেবে ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা, ৭ এপিবিএন সিলেটের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কসোভো ও আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রশিক্ষণ এবং সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।
তিনি বর্তমানে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাব এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়া এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
আলী হোসেন ফকিরের সহধর্মিণী অধ্যাপক নাসিমা ফেরদৌসী সরকারি তিতুমীর কলেজে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত। পারিবারিক জীবনে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে কুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেয়ে বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন।
খুলনা তৃতীয় এপিবিএন অধিনায়ক থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের নভেম্বরে আলী হোসেন ফকিরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে উপ-মহাপরিদর্শক, পরে ২০২৫ সালের আগস্টে অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়।
আইজিপি হিসেবে সবশেষ দায়িত্ব পালন করা বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন তখনকার আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন মধ্যরাতে নতুন পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মো. ময়নুল ইসলাম। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে বাহারুল আলমকে পুলিশপ্রধানের দায়িত্বে আনা হয়।
ক.ম/

