শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আরেক দফা সংশোধন হচ্ছে নির্বাচনি আচরণবিধি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

EC
আরেক দফা সংশোধন হচ্ছে নির্বাচনি আচরণবিধি। ছবি: সংগৃহীত

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে জমজমাট নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। এরই মধ্যে আবার নির্বাচনে আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক ও প্রার্থীর নাম যুক্ত করার সুযোগ মিলবে। এছাড়া মাইক ব্যবহারবিধিও আসছে কিছুটা পরিবর্তন।  

ইসি সূত্র জানায়, ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক বা দলের নাম থাকতে পারবে না- এমন বিধান বর্তমান আচরণ বিধিমালায় আছে। এ নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল আপত্তি জানালে নির্বাচন কমিশন আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। আচরণ বিধিমালা সংশোধন হয়ে এলে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে কোনো বাধা থাকবে না।


বিজ্ঞাপন


সূত্র আরও জানায়, বিএনপি ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম যুক্ত করার বিষয়ে কমিশনকে জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আচরণ বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘হ্যাঁ, আচরণ বিধিমালায় ভোটার স্লিপ ব্যবহারের যে বিধিমালা আছে, সেখানে সংশোধন আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভোটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

ভোটে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ দলেই নেই নারী প্রার্থী

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, আচরণ বিধিমালায় দুটো বিষয় সংশোধন করা হচ্ছে। একটি মাইক ব্যবহারে ক্ষেত্রে আরেক ভোটার স্লিপ। প্রচারণায় মাইক ব্যবহারের যে সংখ্যা উল্লেখ আছে সেখানে বলা হয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। আর ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ব্যবহারে যে বিধিনিষেধ তা তুলে দেওয়া হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


66

বর্তমানে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে হলে সেখানে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম দিয়ে তা বিতরণের সুযোগ রয়েছে। সংশোধন হলে এর সঙ্গে প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নাম যুক্ত করে বিতরণ করতে পারবে।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, আচরণবিধির একটা বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, ভোটার স্লিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক। সেক্ষেত্রে ভোটার নম্বর, প্রার্থীর নাম, প্রতীক ইত্যাদি ভোটার স্লিপের মাধ্যমে পেলে সহজ হয়। আমরা বলেছি, এগুলো কিছু পুনর্বিবেচনা করা দরকার। আচরণবিধি যেহেতু ইলেকশন কমিশন নিজেরাই পরিবর্তন করতে পারবে, সুতরাং এ বিষয়টা বিবেচনায় নেওয়া। কারণ প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবে।

‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’  এর ৮ ধারায় ভোটার স্লিপ ব্যবহারের বিধিনিষেধ উল্লেখ করে বলা হয়েছে- (ক) ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ প্রদান করিতে পারিবেন, তবে কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজের মধ্যে উক্ত ভোটার স্লিপ বিতরণ করিতে পারিবেন না।

আরও পড়ুন

শতাধিক আসনে ফলাফল নির্ণায়ক হতে পারে প্রবাসী ভোট

(খ) দফা (ক) তে উল্লিখিত ভোটার স্লিপ ১২ (বারো) সেন্টিমিটার × ৮ (আট) সেন্টিমিটার আকারের অধিক হইতে পারিবে না, এবং উহাতে প্রার্থীর নাম বা ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক বা ভোট প্রার্থনা করিয়া কোনো কথা বা এইরূপ ইঙ্গিতবহ কিছু উল্লেখ করিতে পারিবেন না।

(গ) মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখবিহীন কোনো ভোটার স্লিপ মুদ্রণ করিতে পারিবে না।

আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে সেখানে উল্লেখ থাকবে- প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও দলের নামসহ ভোটার স্লিপ তৈরি করে ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ভোটার স্লিপ ভোটারদের প্রদান করতে পারবেন প্রার্থীরা।

6665

প্রচারণায় মাইক ব্যবহার বিষয়ে বলা হয়েছে- (১) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি কোনো নির্বাচনি এলাকায় একইসঙ্গে ৩ (তিন) টির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করিতে পারিবেন না।

(২) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার সময়কালে কোনো নির্বাচনি এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২ (দুই) ঘটিকা হইতে রাত ৮ (আট) ঘটিকা সীমাবদ্ধ রাখিবেন।

আরও পড়ুন

অস্ত্রের মালিক প্রার্থীদের ৬৯ শতাংশই ব্যবসায়ী

(৩) নির্বাচনি প্রচারকার্যে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দের মানমাত্রা ৬০ (ষাট) ডেসিবেলের অধিক হইতে পারিবে না।

আচরণ বিধিমালা সংশোধন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীরা মাইক ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করার পরও এক দফা সংশোধন করে ইসি। ওই সময় ইসি জানায়, কিছু করণীক ভুল থাকায় সংশোধন করা হয়। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনী আনা হচ্ছে আচরণ বিধিমালায়।

এমএইচএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর