শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

হজের অব্যয়িত ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ফেরত পেল ৯৯০টি হজ এজেন্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

হজের অব্যয়িত ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ফেরত পেল ৯৯০টি হজ এজেন্সি
হজের অব্যয়িত ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ফেরত পেল ৯৯০টি হজ এজেন্সি

২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ কার্যক্রমে সৌদি আরবের ‘মাসার নুসুক’ প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়া অব্যয়িত ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশের ৯৯০টি হজ এজেন্সি। এই অর্থ ফেরত আনার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চিঠিপত্র চালাচালি ও বৈঠকের মাধ্যমে এই টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের হজ পালনের খরচ বাবদ সৌদি আরবে অর্থ পাঠানো হয়ে থাকে। এই অর্থ পাঠানো হয় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ‘মাসার নুসুক’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন (IBAN) নম্বরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে প্রতি বছর এই অর্থ পাঠানো হয়।

গত আট বছরে হজে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত হজ এজেন্সিগুলো সৌদি প্রান্তে যে অর্থ পাঠিয়েছিল, তার কিছু অংশ ব্যয় না হয়ে জমা পড়ে ছিল সেই আইবিএএন নম্বরে। অর্থাৎ, হজ ব্যবস্থাপনার জন্য পাঠানো হলেও কিছু টাকা অব্যয়িত রয়ে যায়। এসব অব্যয়িত টাকা ফেরত পেতে হজ এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

এরপর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় একাধিকবার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনার টেবিলে তোলে। দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হজ অফিসের আইবিএএনে জমা থাকা এই অর্থ ফেরত দেয়। পরে সেই অর্থ বাংলাদেশ হজ অফিসের সৌদি ফ্রান্সি ব্যাংকে পরিচালিত হজ-সংক্রান্ত বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।

ড. খালিদ হোসেন জানান, এই অব্যয়িত টাকা ফেরত আনার ক্ষেত্রে সব ধরনের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন এই অর্থ প্রত্যেকটি হজ এজেন্সিকে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৯৯০টি হজ এজেন্সির প্রত্যেকটির নাম ও জমাকৃত অর্থ শনাক্ত করা হয়েছে। কারও টাকাই বাদ যায়নি। সবাই তাদের প্রাপ্য অংশ ফেরত পাবেন।


বিজ্ঞাপন


ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছা, জবাবদিহি এবং হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি বড় উদাহরণ। মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত যোগাযোগ এবং উদ্যোগের কারণেই এই অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেন অব্যয়িত কোনো অর্থ জমা না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথাও জানান তিনি।

এমআর/এইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর