“সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে,সহজ কথা যায় না লেখা সহজে”- রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছেন। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়তো স্বামীর জন্য স্ত্রীর প্রশংসা করা। সারাদিন বিভিন্ন বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা গেলেও প্রশংসা করার সময়টুকু কেন যেন হয়ে উঠে না। অনেকেই রয়েছেন স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তবে সে কথা শব্দে প্রকাশ করতে পারেন না। তাদের জন্যই আজ বড় সুযোগ- স্ত্রীকে প্রশংসা করার দিন।
তাই হৃদয়ের সকল জড়তা ঝেড়ে ফেলে আজ মন খুলে স্ত্রীর প্রশংসা করুন। তাকে জানান, আপনার হৃদয়ে তার জন্য কতটা ভালোবাসা রয়েছে, তিনি আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূণ।

ন্যাশনাল ওয়াইঅ্যাফ প্রিসিয়েশন ডে
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবারকে “ন্যাশনাল ওয়াইঅ্যাফ প্রিসিয়েশন ডে” বা স্ত্রীকে প্রশংসা করার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। স্ত্রীদের সম্মান জানানোর লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই দিবস উদযাপিত হয়। এর পর থেকে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই দিবস উপলক্ষে আপনিও আজ স্ত্রীর প্রশসংসায় মেতে উঠুন। আপনার জীবনে তার গুরুত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরুন। তার প্রতি আপনার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে কিছু উপহারও কিনে দিন। অথবা তাকে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান। আপনার সঙ্গী যদি “মি টাইম” পছন্দ করেন, তবে আজ তাকে সকল দায়িত্ব থেকে ছুটি দিন। তাকে নিজের মতো করে সময় কাটাতে বলুন।
আরও পড়ুন: প্রেম আর ভালোবাসা কি এক?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যেকোনো সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা আর ক্লান্তির পর স্বামীর মুখের একটু প্রশংসায় স্ত্রীরা সমস্ত ক্লান্তি ভুলে যান। কাজের স্বীকৃতি কার না ভালো লাগে!

আরও পড়ুন: সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি অর্থ নাকি প্রেম?
সম্পর্কের মধুরতা বাড়াতে যা যা করতে পারেন
স্ত্রীর প্রশংসার কথা শোনে অনেকেই ঘাবড়ে যান। কীভাবে কোথা থেকে শুরু করবেন ভেবে পান না, অথবা অনেকে খরচের ভয়ে ভাবতে পারেন- এ আবার নতুন খরচের পালা! তবে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। প্রশংসা করার জন্য সবসময় দামি কোনো উপহার বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন দৈননন্দিন জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মানসিকতা, যা সম্পর্কে অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে-

কাজের স্বীকৃতি দিন: সংসারে স্ত্রীর অবদানকে মূল্যায়ন ও প্রশংসা করুন। আপনার জন্য করা তার প্রতিটি কাজের শেষে ছোট করে ‘ধন্যবাদ’ বলুন। আপনার বলা এই ছোট একটি বাক্য তার কাজের প্রতি আপনার সম্মানকে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: সম্পর্কে আস্থা তৈরির ৭ উপায়
তাকে সময় দিন: অনেকে মনে করেন, একই ছাদের নিচে সারাদিন একসঙ্গে থাকা মানেই স্ত্রীকে সময় দেওয়া। অথচ সারাদিন নিজেদের মধ্যে সংসারের প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত কোনো কথাই বলা হয়ে উঠে না। তাই আজকের দিনে দুই কাপ চা নিয়ে একসঙ্গে বসুন। নিজেদের নিয়ে মন খুলে কথা বলুন। দুজনে মিলে বাইরে কোথাও ঘুরতেও যেতে পারেন। হোক না সেটি বাড়ির পাশের ছোট কোনো পার্ক।

তার কথা শুনুন: নারীর কাছে মনোযোগ উপহারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছেন, তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করছেন-তার কাছে এর চেয়ে বড় বিষয় আর হতে পারে না। নারী সবসময় সমাধান চান না। তিনি চান সারাদিন তিনি কী কী করলেন, কেমন বোধ করছেন সেসবের খোঁজ আপনি নিন। আর তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
আরও পড়ুন: সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার গোপন ৫ সূত্র
সামাজিক স্বীকৃতি: শুধু চার দেয়ালের মধ্যে নয়, বরং আপনার পরিবার বা বন্ধুদের আড্ডায় সবার সামনে তার প্রশংসা করুন। তার গুণগুলো নিয়ে কথা বলুন। এতে তিনি বেশ সম্মানিত বোধ করবেন। মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সবাই তেমন আচরণই করবে তাদের সামনে আপনি স্ত্রীর সঙ্গে যেমন আচরণ করেন।

অনেকেই মনে করেন, সঙ্গী তো ভালোবাসেনই। সেটি আবার আলাদা করে বলারই বা কী প্রয়োজন! আপনি জানেন কি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কের বাঁধনকে আরও মজবুত করে?
তাই নিজের ভালোবাসা ও অনুভূতি বেশি বেশি প্রকাশ করুন। আজকের এই বিশেষ দিনে জীবনসঙ্গীকে মনের কথাটি নতুন করে বলুন। তাকে অনুভব করান আপনার জীবনে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মেনে রাখবেন, প্রেম কখনো পুরনো বা বুড়ো হয় না। তাই, একটি সুন্দর সম্পর্কের জন্য আজই বাড়িয়ে দিন প্রশংসার হাত।
এএ




