রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় ও সময় বাঁচানোর হাতিয়ার হলো প্রেশার কুকার। তবে সামান্য অসাবধানতা ও ছোট কিছু ভুলের কারণে এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রটিই বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রেশার কুকার বিস্ফোরণের বেশিরভাগ ঘটনা মূলত কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয়, বরং ব্যবহারকারীর কিছু অনিয়ম ও অসাবধানতার ফল। তাই বড় বিপদ এড়াতে কুকার ব্যবহারের সময় মেনে চলা জরুরি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় নিয়ম।
১. কোন ভুলগুলো কখনও করবেন না?
প্রেশার কুকারে কখনওই অতিরিক্ত খাবার বা সামগ্রী দেওয়া উচিত নয়। সাধারণত কুকারের ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভর্তি করা একেবারেই অনুচিত। বিশেষ করে ডাল বা ঝোলজাতীয় খাবার রান্নার সময় আরও কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখা প্রয়োজন, কারণ এগুলো ফোটার পর ফেনা তৈরি করে সেফটি ভালভ বা ভেন্ট পাইপ আটকে দিতে পারে। এছাড়া রান্নায় পর্যাপ্ত জলের ব্যবহার না করলে কুকার অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. নিয়মিত পরীক্ষা করুন এই অংশগুলো
নিরাপদে রান্না করতে প্রেশার কুকারের রাবারের গ্যাসকেট, সেফটি ভালভ, ভেন্ট পাইপ ও হুইসেল নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। গ্যাসকেট শক্ত হয়ে গেলে, ফেটে গেলে বা ঢিলে হয়ে গেলে দেরি না করে বদলে ফেলুন। এ ছাড়া হুইসেল বা ভেন্ট পাইপে আটকে থাকা খাবারের কণা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। মনে রাখবেন, রান্নার ঠিক পরপরই বা কুকারের ভেতরের বাষ্প বা চাপ সম্পূর্ণ বের হওয়ার আগে কখনো জোর করে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করা যাবে না।
আরও পড়ুন: প্রেসার কুকারে রান্নার ৫ টিপস
৩. নিরাপদে ব্যবহার করতে কী করবেন?
খুব পুরোনো, জীর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত প্রেশার কুকার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ঢাকনার লক, মূল বডি কিংবা সেফটি সিস্টেমে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত মেরামত করুন। প্রয়োজনে সবসময় আসল বা ব্র্যান্ডের স্পেয়ার পার্টস ব্যবহার করুন এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করুন। কুকার থেকে অস্বাভাবিক কোনো শব্দ হলে, অতিরিক্ত বাষ্প বের হলে বা হুইসেলে গণ্ডগোল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। মনে রাখবেন, রান্নার সময় সামান্য একটু সতর্কতা বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারে এবং আপনার রান্নাঘরকে রাখতে পারে সম্পূর্ণ নিরাপদ।
এজেড




