বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

কোরবানির পশুকে কখন খাবার খাওয়ানো বন্ধ করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরবানির পশুকে কখন খাবার খাওয়ানো বন্ধ করবেন?
কোরবানির পশুকে কখন খাবার খাওয়ানো বন্ধ করবেন?

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। কোরবানিদাতারা ইতিমধ্যে পছন্দের পশু কিনে হাটে বা বাড়িতে যত্নে রাখছেন। কোরবানির পশুর যত্ন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যের ওপর পশুর মাংসের গুণগত মান অনেকটাই নির্ভর করে। তবে অনেক কোরবানিদাতাই জানেন না যে, কোরবানি করার একটি নির্দিষ্ট সময় আগে পশুকে খাবার খাওয়ানো বন্ধ করতে হয়। পশুর সুস্থতা এবং জবাইয়ের পর মাংসের গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার স্বার্থে এই বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে জানান প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

কোরবানি দেওয়ার কত সময় আগে খাবার বন্ধ করবেন?


বিজ্ঞাপন


প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পশু জবাই করার অন্তত ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা আগে সব ধরনের শক্ত বা দানাদার খাবার (যেমন- খড়, ভুষি, ঘাস ইত্যাদি) খাওয়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তবে কোরবানি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার ও সাধারণ পানি পান করাতে হবে। পানি পানের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং এটি পশুর শরীরের জন্য উপকারী।

7c6a36bfb25903dbc6fd4dad64e279fb6c9b8e0097a1ff4f

১২ ঘণ্টা আগে খাবার বন্ধ করার বৈজ্ঞানিক কারণ

১. হজম প্রক্রিয়া ও পরিচ্ছন্নতা: পশু জবাইয়ের ১২ ঘণ্টা আগে খাবার বন্ধ করে দিলে তার পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রে থাকা অতিরিক্ত খাবার সম্পূর্ণ হজম হয়ে যায়। এর ফলে জবাইয়ের পর পশুর পেট বা ভুঁড়ি কাটার সময় অতিরিক্ত গোবর বা অর্ধহজম হওয়া খাবারের বর্জ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে না। এতে মাংস নোংরা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় এবং চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়।


বিজ্ঞাপন


২. রক্ত নিষ্কাশন ও মাংসের গুণগত মান: খালি পেটে থাকা পশুকে যখন পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো হয়, তখন পশুর শরীরের রক্ত পাতলা থাকে। জবাইয়ের পর শরীর থেকে খুব দ্রুত এবং সম্পূর্ণ রক্ত বের হয়ে যেতে পারে। মাংসের ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে না থাকায় মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং কোনো ধরনের দুর্গন্ধ বা ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর সুযোগ পায় না।

Daily-Apan-Desh-15-2605261322

৩. মাংস নরম ও সুস্বাদু হওয়া: বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানি দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় খাবার বন্ধ রাখলে পশুর শরীরের গ্লাইকোজেন ধীরে ধীরে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়। এই ল্যাকটিক অ্যাসিড মাংসকে নরম বা 'টেন্ডার' করতে সাহায্য করে, যা রান্নার পর মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: গরুর কোন অংশ কী রান্নার জন্য সেরা?

খাবার বন্ধ না করলে যে ধরনের সমস্যা হতে পারে

যদি কোরবানি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পশুকে খাবার খাওয়ানো হয়, তবে জবাইয়ের পর পশুর পেট থেকে প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য বের হয়। এই বর্জ্য অসাবধানতাবশত মাংসে লেগে গেলে মাংসের স্বাদ নষ্ট হয় এবং দ্রুত পচন ধরতে পারে। এ ছাড়া ভরা পেটে পশু জবাই করলে শরীর থেকে চামড়া আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

111pick-20230626080419

তাই ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে সুস্থ পশু কোরবানি দেওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক এই নিয়মটি মেনে চলা উচিত। ঈদের আগের দিন রাত থেকেই কোরবানির পশুকে ভারী খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং শুধুমাত্র পর্যাপ্ত পানি পান করান। এতে আপনার কোরবানির মাংস থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর