শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

অজান্তেই মেধা কমাচ্ছে ৭ অভ্যাস: ডা. সুধীরের পরামর্শ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

অজান্তেই মেধা কমাচ্ছে ৭ অভ্যাস: ডা. সুধীরের পরামর্শ

আধুনিক জীবনযাত্রার দ্রুত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মস্তিষ্কের ওপর ক্রমেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতের সিএমসি ভেলোর ও অ্যাপোলো হায়দ্রাবাদের প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার সম্প্রতি এমন ৭টি ক্ষতিকর অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বা ‘ব্রেইন পাওয়ার’ কমিয়ে দেয়। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে মেধা ও মনোযোগ ধরে রাখা যায়, সে বিষয়ে তার পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-

১. অতিরিক্ত ডিজিটাল স্টিমুলেশন (ফোনের নোটিফিকেশন)

বারবার ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার ফলে গভীর মনোযোগ (Deep Focus) ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার মনোযোগ ভেঙে গেলে পুনরায় পূর্ণ একাগ্রতায় ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এই ঘনঘন মনোযোগ বিচ্যুতি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়।
সমাধান: খুব জরুরি না হলে ফোন ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখুন। ইমেইল বা মেসেজ চেকের জন্য দিনে নির্দিষ্ট দুই থেকে তিনটি সময় নির্ধারণ করুন।

আরও পড়ুন: হৃদপিণ্ডের শত্রু যেসব ফল, বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

২. তথ্যের অতিরিক্ত চাপ (Information Overload)

প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভিড়ে আমরা প্রায় সারাক্ষণ ডুবে থাকি। সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে তথ্যের আধিক্য মস্তিষ্ককে জরুরি ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের পার্থক্য করতে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে নতুন কিছু শেখা এবং যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
সমাধান: সোশ্যাল মিডিয়া ফিড পরিচ্ছন্ন রাখুন। দিনে ১৫–২০ মিনিট নির্দিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংবাদ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।


বিজ্ঞাপন


Information-Overload

৩. নিম্নমানের ঘুম ও ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার

গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের ‘গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম’ সক্রিয় হয়, যা বর্জ্য পদার্থ অপসারণে সহায়তা করে। দেরিতে ঘুমানো বা ঘুমানোর আগে মোবাইল স্ক্রিনের নীল আলো (Blue Light) এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
সমাধান: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধ রাখুন, যাকে ‘ডিজিটাল সানসেট’ বলা হয়। শোবার ঘর অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।

আরও পড়ুন: ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে পাতে রাখুন এই ৫ খাবার 

৪. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ (Chronic Stress)

সারাক্ষণ কাজের চাপে থাকা বা গভীর রাতে অফিসের মেইল চেক করার ফলে শরীর সবসময় ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ (চাপ মোকাবিলার স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া) অবস্থায় থাকে। এতে দীর্ঘমেয়াদে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সমাধান: প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যেমন ‘৪-৭-৮ টেকনিক’ অনুশীলন করুন। মানসিক চাপ বাড়ায় এমন অপ্রয়োজনীয় কাজগুলো এড়িয়ে চলুন।

brain-affect-3

৫. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এতে স্ট্রেস হরমোন শরীরে জমে থেকে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।
সমাধান: দিনে অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫ মিনিট দাঁড়িয়ে হালকা নড়াচড়া বা স্ট্রেচিং করুন।

৬. অন্যের জীবনের সঙ্গে তুলনা করা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের ‘সাজানো’ জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের তুলনা করলে মানসিক ক্লান্তি ও হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ডোপামিন চক্রে প্রভাব ফেলে এবং সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়।
সমাধান: মনে রাখুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ কেবল তাদের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই তুলে ধরে। অনুপ্রেরণাদায়ক ও গঠনমূলক বিষয়বস্তু অনুসরণ করুন।

৭. সারাক্ষণ মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখা

অল্প অবসর পেলেই আমরা ফোনে ডুবে যাই। অথচ মস্তিষ্ক যখন কিছুটা শান্ত বা ‘অলস’ থাকে, তখনই নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। সারাক্ষণ তথ্য গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কের চিন্তার পরিসর সংকুচিত হয়ে যায়।
সমাধান: প্রতিদিন কিছু সময় কোনো কাজ ছাড়া চুপচাপ বসে থাকুন বা প্রকৃতির মাঝে হাঁটুন। মস্তিষ্ককে মাঝে মাঝে ‘আইডল’ থাকার সুযোগ দিন- এটি চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়ক।

মস্তিষ্কের এই শক্তিক্ষয় রোধ করা অনেকটাই আমাদের নিজস্ব অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে পারলে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সচেতন জীবনযাপনই সুস্থ ও কর্মক্ষম মস্তিষ্কের মূল চাবিকাঠি।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর