বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। প্রকৃতি থেকে শীত বিদায় নিয়ে আসছে বসন্ত। বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আর আবহাওয়ার এই বেহাল দশায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে ঘরে ঘরে। তার ওপর কিছুদিন পর পর বদলে যাচ্ছে কফের রঙ। কখনো হলুদ আবার কখনো সবুজ হচ্ছে কফ।
কফের এই রঙবদল স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। সাদা কফ হঠাৎ কেন হলুদ বা সবুজ হয়ে যায়? এমনটা হওয়া কীসের ইঙ্গিত? কফের রঙ বদলে গেলে কী হয়?
বিজ্ঞাপন
কফের রং সবুজ বা হলুদ হয় কেন?
ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের কারণে এমনটা হতে পারে। সাধারণত ভাইরাসের আক্রমণেই ঠান্ডা লাগে। সর্দি, কাশি হয়। এছাড়া অ্যালার্জিজনিত কারণেও কারও কারও ঠান্ডা লাগতে পারে। কিছু কিছু মানুষের এই সব সমস্যার ওপর ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। তখন কফের রং বদলে সবুজ বা হলুদ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন-
কাদের এই সমস্যা হয়?
যেকোনো মানুষের এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। বিশেষত, যাদের অ্যাজমা, সিওপিডি, ক্রনিক কিডনির অসুখ রয়েছে বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে করণীয়?
চিকিৎসকের মতে, এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। এই ওষুধটা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
তবে এই বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে চিকিৎসক দেখিয়ে। নিজের বুদ্ধিতে বা দোকানে বলে এই ওষুধ খেলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। এমন সব ক্ষেত্রে ওষুধ তো কাজ করেই না, উল্টে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। ফলে পরবর্তী সময় ওষুধটি আর কাজ করতে চায় না। এমনকী সমস্যা থেকেও মেলে না মুক্তি।

কফ সিরাপ কি কাজ করে?
নিশ্চয়ই করে। তবে যেকোনো কফ সিরাপ খেলেই হবে না। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই রোগীর সমস্যা শুনে উপযুক্ত সিরাপের পরামর্শ দিতে পারেন। তাই নিজের বুদ্ধিতে কফ সিরাপও খাবেন না।
সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগতে পারে?
এটা আগে থেকে সম্ভব নয়। তবে মোটামুটি ১ থেকে ২ সপ্তাহ লাগতে পারে সেরে উঠতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাই ধৈর্য ধরে ওষুধ খেতে হবে। নয়তো বিপদ বাড়বে।

তবে কেবল ওষুধ খেলেই চলবে না। সঙ্গে মৌসুমি ফল, শাক, সবজি খান। এতে মিলবে জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। আর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন আপনি।
এনএম

