প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু— উভয়ের শরীরেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে কৃমি। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটায় থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম এবং হুকওয়ার্ম নামক কৃমিগুলো। পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্মের মতো কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে সেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না এবং বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।
আমাদের শরীরে কৃমি প্রবেশ করে কীভাবে?
কৃমির ডিম বা লার্ভা দূষিত খাবার, পানি, মাটি, অপরিষ্কার হাত কিংবা সংক্রমিত মল-মূত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কখনো কখনো খোলা পায়ে হাঁটলে বা অপরিষ্কৃত পরিবেশে বেশি সময় কাটালে, কৃমি ত্বকের মাধ্যমেও শরীরে ঢুকতে পারে।

এছাড়া খাওয়ার আগে হাত না ধোওয়া, দূষিত পানি বা অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার পাবলিক সুইমিং পুলে গোসল করা কিংবা পোষ্য প্রাণী চাটার কারণেও শরীরে কৃমি ঢুকতে পারে। এই কৃমিগুলো শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অন্ত্রে ডিম পাড়ে।
কৃমি শরীরের কী কী ক্ষতি করে?
শরীরের পুষ্টি শোষণ করে নেয় কৃমি। ফলে শরীরে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমি ভাব বা চুলকানির মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ডিওয়ার্মিং না করলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক শারীরিক জটিলতাও তৈরি করতে পারে।

কৃমির সংক্রমণ হলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ের ক্ষেত্রেই পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, পেট ফাঁপা এবং অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এই কৃমিগুলি প্রথমে তেমন ক্ষতিকারক না মনে হলেও, এরা যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি এই কৃমিগুলো ফুসফুসে পৌঁছে যায়, তাহলে নিউমোনিয়ার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর যদি এরা মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়, তাহলে গুরুতর স্নায়ুর সমস্যা দেখা দেয়।
কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে বুঝবেন, শরীরে বাসা বেঁধেছে কৃমি? চলুন বিস্তারিত জানা যাক-

ক্ষিদে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া:
অন্ত্রের কৃমি শরীরের ক্ষিদে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে কারো ক্ষিদে কমে যেতে পারে, আবার কারো ক্ষিদে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ করে নেয়, যার কারণে দেহ পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। ফলে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়।
ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা:
ডায়েট কিংবা ব্যায়াম না করার পরও যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে আর সবসময় ক্লান্ত লাগে তাহলে তা চিন্তার বিষয়। এটি পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এর কারণ হতে পারে অন্ত্রের কৃমি। এগুলো শরীরের ভেতরের পুষ্টি শোষণ করে। ফলে দেহ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মলের সঙ্গে কৃমি:
অন্ত্রের কৃমির সবথেকে স্পষ্ট লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় মলের সঙ্গে ছোট সাদা কৃমি দেখা যাওয়া। অনেক সময় এই কৃমিগুলো খুব ছোট বা সূক্ষ্ম হওয়ায় চোখে পড়ে না। তবে বারবার মলে অস্বাভাবিক গন্ধ বা অচেনা কিছু লক্ষ্য করলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন-
ঘন ঘন পেট ব্যথা:
কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি বার বার পেটে মোচড় ধরে বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হয়, তাহলে সাবধান হোন! এটি পেটে কৃমি হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। খাওয়ার পর বা খালি পেটে ব্যথা বেড়ে গেলে তা আরও স্পষ্টভাবে কৃমির ইঙ্গিত দেয়। কৃমি অন্ত্রে বাসা বাঁধে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পেটে অস্বস্তি ও ব্যথা হয়।

ত্বকের সমস্যা ও চুলকানি:
কৃমি শুধু অন্ত্রেই থাকে না। এদের থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি কিংবা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এটি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এনএম

