তরমুজ মৌসুমী ফল। যা সকলের পছন্দ। বাজারে এখনো হরদম বিক্রি হচ্ছে এই রসালে ফল। যা পুষ্টির ভান্ডার। তরমুজ মিষ্টি ফল হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন এটা খেলে ওজন বাড়ে। আসলেই কি তাই? কী বলছেন পুষ্টিবিজ্ঞানীরা?
বিজ্ঞাপন
তরমুজের পুষ্টিগুণ
আমাদের অতি প্রিয় তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ভাণ্ডার। আর এইসব উপাদান কিন্তু দেহে পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। শুধু তাই নয়, এতে মজুত ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ক্যারোটিনয়েডস, লাইকোপেন কিন্তু শরীরকে একাধিক জটিল অসুখ থেকে রক্ষা করে। সেই সঙ্গে এই ফলে মজুত ফ্লুইড শরীরে জলের ঘাটতিও মিটিয়ে দেয়। এমনকী এই ফলের গুণে হার্ট, চোখ সহ দেহের একাধিক অঙ্গের হাল ফেরে বৈকি। আর এইসব কারণেই বিশেষজ্ঞরা সকলেই এই ফলের প্রশংসা করেন।
তরমুজ খেলে কি ওজন বাড়ে?
বিজ্ঞাপন
এই প্রশ্নের উত্তরে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা জানান, তরমুজ একটি লো ক্যালোরি ফুড। তাই এই ফল খেলে ওজন বাড়ার কোনও আশঙ্কা থাকে না। উল্টে একটু সমঝে-বুঝে খেলে এই ফলের গুণে মেদ ঝরিয়ে ফেলা সম্ভব। তাই ওজন বাড়ার ভয়ে তরমুজের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেবেন না। বরং কোনও পুষ্টিবিদের পরামর্শ মতো এই ফলকে ওয়েট লস ডায়েটে করে দিন জায়গা। ব্যস, তাতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।
তরমুজের জুস খাওয়া কি ঠিক?
আমাদের মধ্যে অনেকেই তরমুজের রস করে খান। এমনকি এই রসের মধ্যে আলাদা করে চিনি-মিষ্টি মিশিয়েও পান করেন অনেকে। আর এসব কারণেই এই পানীয়ের ক্যালোরি ভ্যালু বেড়ে যায়। আর যে কোনও হাই ক্যালোরি পানীয় খেলে যে অচিরেই ওজন বাড়বে, তা তো বলাই বাহুল্য! তাই ওজনকে বশে রাখতে চাইলে এভাবে তরমুজের জুস বানিয়ে খাবেন না। আশা করছি, এই নিয়মটা মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।
আরও পড়ুন: আলু খেলে কি ডায়াবেটিস হয়?
ডায়াবেটিস রোগীরা কি তরমুজ খেতে পারবেন?
অনেকেই মনে করেন ডায়াবিটিসে তরমুজ খেতে নেই। এমনকি এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায় কিছু কিছু ডাক্তার ডায়াবেটিস রোগীদের তরমুজ খেতে বারণ করেন। তবে সত্যি বলতে, ডায়াবিটিস রোগীরা চাইলে হেসেখেলে এই ফল খেতে পারেন। কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হলেও, গ্লাইসেমিক লোড কিন্তু ১০-এর নিচে। আর সেই কারণে এই ফল খেলে সুগার খুব একটা বাড়ে না। তাই ডায়াবিটিস রোগীরা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মতো তরমুজ খেয়ে রসনাতৃপ্তি করতে পারেন। তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না।
এজেড