রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায় 

নিশীতা মিতু
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

depression
ছবি: প্রতীকী

‘মন খারাপের বিকেলে কেউ গলা সাধে না/ কার্নিশে আর শালিক পাখি বাসা বাঁধে না’— অঞ্জন দত্তের লেখা এই গান শুনে অনেকেরই মন খারাপ হয়। চলতি জীবন হঠাৎ করেই হোঁচট খেতে পারে যেকোনো সময়। সব যেন কেমন থমকে যায় তখন। চারপাশের কিছুই আর ভালো লাগে না। এমন পরিস্থিতি হলে বলা হয় একজন মানুষ ডিপ্রেশনে আছেন। 

ডিপ্রেশন নানা কারণে হয়। এর প্রকারভেদ রয়েছে। কিছু ডিপ্রেশন হয় ক্ষণস্থায়ী, কিছু দীর্ঘস্থায়ী। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা গ্রহণ করতে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। তবে চিকিৎসাই করাতে হবে এমন নয়। ডিপ্রেশনের কারণগুলো খুঁজে প্রতিরোধ করতে পারা বেশি কার্যকর। দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ডিপ্রেশন দূরে থাকা যায়। চলুন বিস্তারিত জানা যাক- 
exrecise


বিজ্ঞাপন


ব্যায়াম করা

মন শান্ত রাখতে ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন আধাঘণ্টা করে সময় ব্যয় করতে পারেন ব্যায়ামের জন্য। বিভিন্ন গবেষকের অনুযায়ী, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এতে দেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। এটি দেহের এন্ডোরফিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। এটি মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও দেহের ইমিউন সিস্টেমের যে অংশগুলো ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দেয়, সেগুলোর প্রভাব কমায় ব্যায়াম। 

মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকা


বিজ্ঞাপন


ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকতে চাইলে মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা বা অন্যান্য মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন। এসব মাদকদ্রব্য গ্রহণে সাময়িক প্রশান্তি মেলে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এগুলো শরীরের জন্য একদমই উপকারী নয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ডিপ্রেশন ও উদ্বিগ্নতার লক্ষণ আরও প্রকোপ হয়।
family

সীমা নির্ধারণ করতে শেখা

নিজের কাজের ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করতে হবে। কোনোকিছু নিয়ে অতিরিক্ত মগ্ন হয়ে থাকলে ডিপ্রেশন আর অস্থিরতা দুটোই বেড়ে যায়। ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের মাঝে সীমা টানতে হবে।

সিগারেটকে না বলা

সিগারেট আর ডিপ্রেশন একে অপরকে স্থায়ী করে তোলে। ডিপ্রেশন থেকে দূরে থাকতে অনেকে ধূমপান করেন। এটি ছাড়ুন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা

বেশকিছু গবেষণা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে। এটি আত্মসম্মানবোধ কমিয়ে দিতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় মেনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের বেশি সময় দিন। অনলাইনের পরিবর্তে অফলাইনে সামাজিক হতে চেষ্টা করুন। 
happy1

মানসিক চাপ কমানো

দীর্ঘসময় মানসিক চাপ নিয়ে থাকা ডিপ্রেশনের একটি সাধারণ কারণ। কোনো বিষয় বা কাজের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে গেলে তা ডিপ্রেশনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। তাই যা করা বা পাওয়া সম্ভব নয় তা নিয়ে চিন্তা করা বাদ দেওয়াই ভালো। 

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভালো করে জানা

যে ওষুধ খাচ্ছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো আগে ভালোভাবে জেনে নিন। এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ডিপ্রেশন বাড়তে পারে। এজন্য যেকোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শমতো খাওয়া উচিত এবং ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ডিপ্রেশন হতে পারে কি না সেটা জেনে নেওয়া উচিত।
happy2

নিজের যত্ন নেওয়া

ডিপ্রেশনের মাত্রা কমাতে নিজের যত্ন নিন। পরিমিত ঘুমান। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। মন খারাপের কারণ হবে এমন মানুষদের এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে যেসব কাজে আনন্দ মেলে তা করুন। 

নিজেকে ভালোবাসা বিষণ্ণতা কমানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি। তাই নিজেকে ভালোবাসুন। 

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডট কম, ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর