রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে আগামী ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। তবে আজ এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ থাকলেও আপত্তি না থাকায় বিচারক নতুন দিন ঠিক করে দেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও মঈনুল করিম।
শুনানির জন্য এদিন গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। তারা হলেন- জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ জন পলাতক রয়েছেন।
পলাতক রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
আরও পড়ুন:
পলাতক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক লে. জেনারেল মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন ও আশরাফুজ্জামান, এডিসি এস এম মেহেদী হাসান ও মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বি এম ফরমান আলী।
মামলার পূর্বাপর
গত ২৭ জুলাই এই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-২।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের ঠিকানায় খুঁজে না পেয়ে ‘নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট’ (এনইআর) দিলে গত ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
তারা ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের ‘পলাতক’ দেখিয়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর (বুধবার) দিন রাখা হয়।
প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগের প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিবরণ রয়েছে, যেখানে ২০ জনের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএনবি/এসআই




