বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কারাগারে তারেক সাঈদকে পেটানোর অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

কারাগারে তারেক সাঈদকে পেটানোর অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

মুন্সিগঞ্জ কারাগারে গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে কারারক্ষীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ তুলেছেন তার আইনজীবী।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত ও তার যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদনও করেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল আবেদনটির শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন।

তারেক সাঈদের আইনজীবী মাহমুদুল হুসাইন রুবেল বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় গত ১০ আগস্ট তারেক সাঈদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদনে তাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ওই দিন গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে হঠাৎ তার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান কয়েকজন কারারক্ষী। এসময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।’

এই আইনজীবী দাবি করেন, ‘লাঠির আঘাতে তারেক সাঈদের মাথায় জখম হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও তাকে ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি।’

নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত ও চিকিৎসা চেয়ে ট্রাইব্যুনালে করা এই আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতাদের গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় বুধবার সকালে তারেক সাঈদকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এসব মামলায় আসামির তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নামও রয়েছে।

বুধবার মামলা দুটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন করে আরও দুই মাস সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ঠিক করেন।

মামলার বিবরণে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে’ হত্যা করা হয়। এছাড়া একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করা হয়।

এই গুম ও হত্যার ঘটনাতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে।

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর