আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাদের গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুই মাস সময় পেয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর নতুন দিন ঠিক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেয়।
এদিন সকালে কারাগার থেকে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানিকালে তারা দুজনেই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও মঈনুল করিম।
শুনানিতে অলি মিয়া ট্রাইব্যুনালকে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দুটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা আরও দুই মাস সময় চেয়েছেন। এর মধ্যেই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করে। এর আগে গত ৪ অগাস্ট সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ আগস্ট তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং ওই দিন দুজনকেই নতুন করে গ্রেফতার দেখায় আদালত।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।
এছাড়া একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করা হয়।
এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরএনবি/এআরএম




