বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জিয়াউলের মানবতাবিরোধী অপরাধের সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: তামিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জিয়াউলের মানবতাবিরোধী অপরাধের সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: তামিম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। ছবি- সংগৃহীত

শতাধিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (৩১ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এই দাবি করেন।

তিনি জানান, এদিন মামলার ১৫তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. রফিকুল ইসলাম তার জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেছেন। তার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) পরবর্তী দিন ধার্য করেছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে তাদের সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবে। সবশেষে যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখবে।’

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তদন্তকালে তিনি কীভাবে কাজ করেছেন, কার কার জবানবন্দি নিয়েছেন, কোথায় গিয়েছেন এবং মামলা প্রমাণের জন্য কী কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছেন— মূলত সেসবেরই বর্ণনা দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা।’

এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দিয়েছেন জানিয়ে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘সাবেক সেনাপ্রধান তার সাক্ষ্যে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, জিয়াউল আহসান একজন সেনা কর্মকর্তা থেকে কীভাবে একজন 'কিলার' হয়ে উঠলেন। এমনকি র‍্যাব কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল, সেটাও তিনি বিস্তারিতভাবে বলেছেন।’

গত ১৫ বছর তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় রাখার উদ্দেশ্যে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের।

মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির কথা তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, ‘যাদের সামনে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং যাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, তারা ট্রাইব্যুনালে এসে বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে র‍্যাব কর্মকর্তারাও ছিলেন।

‘এমন কিছু ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা নিজ চোখে জিয়াউল আহসানের হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। কিছু কর্মকর্তা ছিলেন, যাদেরকে জিয়াউল হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু তারা রাজি হননি; পরে তাদের কাছ থেকে ভিকটিমকে নিয়ে জিয়াউল নিজে হত্যা করেছেন’

গুম করে হত্যার বীভৎসতা তুলে ধরে গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘জিয়াউল আহসান যখন সুন্দরবনে নিয়ে ভিকটিমদের হত্যা করতেন, তখন ওই ট্রলারের মাঝি এবং ট্রলারের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন।’

সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশনের এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা মনে করি, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’

আরএনবি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর