মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ২০৬ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, মো. ইমরান মিয়া ও মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার।
রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, বিচারকদের পদায়নের প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটি। এই বেঞ্চের একজন বিচারপতি ওই জিএ কমিটির সদস্য। এ কারণেই রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (ডিলিট) দেওয়া হয়েছে।
অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর হাইকোর্ট খুললে নিয়মিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান এই আইনজীবী।
বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের এরূপ পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।
রিটে জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির বরাত দিয়ে বলা হয়, তফসিলে থাকা পদগুলোকে সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিন বিচারককে নির্বাহী বিভাগের যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা ওই বিধিমালার তফসিলে নেই।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এরপর ৯ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ জি এম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পিএস এবং ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
রিট আবেদনে এসব প্রজ্ঞাপনকে আইনগত ‘কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদের বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই তিন বিচারককে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে ফিরিয়ে আনার আরজি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
আরএনবি/এফএ




