জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ফের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখলেও, মঙ্গলবার তা ফের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম।
এর আগে গত ১০ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই দিন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আইনজীবী মো. আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এবং প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম তা খণ্ডন করেন।
এর আগে ৭ জুন রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর্ব শেষ হয়।
এ মামলায় হানিফ ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন– কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়সহ তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন বলেছিলেন ‘আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই যথেষ্ট’, তখন সেখানে উপস্থিত থেকে হানিফ তাতে মৌন সমর্থন দেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় নেতা আজগর আলীর একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। সেখানে হানিফের নির্দেশে যেকোনোভাবে আন্দোলন দমনের কথা বলা হয়েছিল বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্কে বলেছিলেন, ‘আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনা পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ।’
২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে তাদের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে ওই বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
আরএনবি/এফএ




