প্রায় এক যুগ আগে ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক তিন মন্ত্রীসহ গ্রেফতার ১১ আসামিকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (১৬ আগস্ট) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।
এদিন গ্রেফতার থাকা ১১ আসামির মধ্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ ৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আব্দুর রাজ্জাককে উপস্থিত করা হয়নি।
এর মধ্যে অপর এক মামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
এ কারণে এই দুজনসহ মোট ১১ জনকে পরবর্তী ধার্য দিনে হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই মামলায় মোট ৪১ জনকে আসামি করেছে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৩০ জুলাই সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো অন্য ৯ জন হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।
প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ঢাকাতে ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন। তদন্ত সংস্থা মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তালিকা পেলেও এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পেয়েছে।
আরএনবি/এফএ




