বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শাপলা চত্বর ‘হত্যাকাণ্ড’: হাসিনাসহ আসামির তালিকায় যে ৪১ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শাপলা চত্বর ‘হত্যাকাণ্ড’: হাসিনাসহ আসামির তালিকায় যে ৪১ জন
শাপলা চত্বরে গণহত্যায় জড়িত আসামিরা। ছবি কোলাজ: ঢাকা মেইল

গত প্রায় এক যুগ আগে সংঘটিত রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘গণহত্যা’ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং পুলিশের সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ৪১ জনের নাম রয়েছে এই অভিযোগে। মামলায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র, সাংবাদিক এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন—

১. শেখ হাসিনা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী;

২.তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর;

৩. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু;

৪. তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোট নেতা: হাসানুল হক ইনু;

৫. আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য: শেখ ফজলুল করিম সেলিম;

৬. সাবেক খাদ্যমন্ত্রী: ড. আব্দুর রাজ্জাক;

৭. আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. মাহবুবউল আলম হানিফ;

৮. সাবেক মন্ত্রী: ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী;

৯. আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম;

১০. সাবেক মন্ত্রী: আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী;

 

 

 

১১.  সাবেক সংসদ সদস্য: অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস;

১২. সাবেক মন্ত্রী: জাহাঙ্গীর কবির নানক;

১৩. সাবেক মন্ত্রী: ডা. দীপু মনি;

১৪. সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য: মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া;

১৫. তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান: ওমর ফারুক চৌধুরী;

১৬. সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগ নেতা: সালাউদ্দিন মাহমুদ ও এস এম জাহিদ;

১৭. গণজাগরণ মঞ্চ’র আহ্বায়ক ও মুখপাত্র: ডা. ইমরান এইচ সরকার;

১৮. ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি: শাহরিয়ার কবির;

১৯. একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মোজাম্মেল হক বাবু;

২০. একাত্তর টিভির সাংবাদিক: ফারজানা রুপা;

২১. সাবেক আইজিপি: হাসান মাহমুদ খন্দকার;

২২. সাবেক আইজিপি: এ কে এম শহীদুল হক;

২৩. সাবেক আইজিপি: ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী;

২৪. সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার: বেনজীর আহমেদ;

২৫. তৎকালীন র‍্যাবের মহাপরিচালক: মো. মোখলেছুর রহমান;

২৬. সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন ডিজি, বিজিবি: জেনারেল আজিজ আহমেদ;

২৭. সাবেক মেজর জেনারেল ও এনটিএমসি প্রধান: জিয়াউল আহসান;

২৮. তৎকালীন এডিজি (অপারেশনস), র‍্যাব: লে. জেনারেল মো. মজিবুর রহমান;

২৯. সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি): মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল;

৩০. সাবেক অতিরিক্ত আইজি: শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান;

৩১. সাবেক অতিরিক্ত আইজি (এসবি): মাহবুব হোসেন;

৩২. সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি): মো. মনিরুল ইসলাম;

৩৩. অতিরিক্ত আইজি: মো. আনোয়ার হোসেন;

৩৪. ডিআইজি: মুহা. আশরাফুজ্জামান;

৩৫. অতিরিক্ত ডিআইজি: এস এম মেহেদী হাসান;

৩৬. সাবেক ডিআইজি (তৎকালীন ডিবি প্রধান): মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ;

৩৭. সাবেক ডিআইজি: বিপ্লব কুমার সরকার;

৩৮. সাবেক ডিআইজি: সৈয়দ নুরুল ইসলাম;

৩৯. পুলিশ সুপার: মো. আসাদুজ্জামান;

৪০. অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবসরপ্রাপ্ত): এস এম শিবলী নোমান এবং

৪১. পুলিশ পরিদর্শক ও সাবেক ওসি (মতিঝিল থানা): বি এম ফরমান আলী।


এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান।

আজই ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের তথ্য মিলেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবিতে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে গতি পায়।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর