প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট পেশ করেছে। যার পরিমাণ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা যা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট।
বাজেটোত্তর ভাবনা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিনের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মেইলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জুহার আলমাস লাবিব।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মেইল: বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে আপনি কতটুকু মনে করেন যে সরকার এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে? বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান সুযোগ ও সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী বলে আপনি মনে করেন?
অধ্যাপক তারেক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন: বারো মাসের মধ্যে শতভাগ বাস্তবায়নের মানদণ্ডে এই বাজেটকে বিচার করা মানে ভুল সময়ে ভুল প্রশ্ন করা। বাংলাদেশ এখন কোনো স্বাভাবিকভাবে চলমান অর্থনীতি নয়, যেখানে একটি গতানুগতিক বার্ষিক বাজেট পেশ হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; দীর্ঘ প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞের পর দেশটি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।’
সতেরো বছর ধরে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন সেই সব প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে, যেগুলোর ওপর একটি বাজেটের বাস্তবায়ন নির্ভর করে। রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত, পরিকল্পনা কাঠামো, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এমনকি নিজেদের পরিমাপ করার পরিসংখ্যান পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুঁজি পাচার, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি অর্থনীতিকে কাঠামোগতভাবে বিপর্যস্ত করে রেখে গেছে।
বিজ্ঞাপন
এরপর যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, তারা যা অর্জন করেছে তার স্বীকৃতি প্রাপ্য: তারা পতন থামিয়েছে। তারা বহিঃখাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে, কিছুটা শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং ধস ঠেকিয়েছে। কিন্তু পতন থামানো আর পুনরুদ্ধার এক জিনিস নয়, রূপান্তর তো দূরের কথা। সেই কাজের জন্য স্বভাবতই প্রয়োজন গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার এবং একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি।’
ঠিক এখানেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের তাৎপর্য। দুই দশকের মধ্যে এটিই প্রথম বাজেট, যা ব্যালট বাক্স থেকে উৎসারিত। এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার তার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং এর মধ্য দিয়ে আলোচনার মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটিই একটি বিরাট সূচনাবিন্দু। যা স্বীকৃতির যোগ্য, তা আগে স্বীকার করি। বাজেটের মূল দর্শন হলো অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, যার লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। এটি ব্যয়নির্ভর গতানুগতিকতা থেকে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগমুখী এক স্বাগতযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার পদক্ষেপগুলো প্রকৃত অর্থেই দরিদ্রবান্ধব।
প্রায় ষাটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ১ থেকে ৫ শতাংশের বহুস্তর কাঠামো থেকে কমিয়ে অভিন্ন ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে। হার্টের স্টেন্টের ওপর ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারে প্রতিটি স্টেন্টের দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, আর কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ প্রতি সেশনে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। বছরের পর বছর মূল্যচাপে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য এগুলো মোটেও তুচ্ছ পদক্ষেপ নয়। সাত দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক লাইসেন্স প্রদানের প্রস্তাবিত সিঙ্গেল-উইন্ডো উদ্যোগটিও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের জবাব।
ঢাকা মেইল: সরকার কি এক বছরের মধ্যে এই বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারবে?
অধ্যাপক তারেক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন: প্রায় নিশ্চিতভাবেই না, এবং তেমনটা প্রত্যাশা করাও অবাস্তব। যে রাজস্ব যন্ত্রকে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে, সেটি সেই একই যন্ত্র, যাকে বিগত শাসন অকার্যকর অবস্থায় রেখে গেছে। যে ব্যাংকগুলোকে ঘাটতির অর্থায়ন করতে হবে, সেগুলো এখনো বছরের পর বছর লুটপাটের ক্ষত বহন করছে। সবকিছুই নতুন করে গড়তে হবে, আর পুনর্গঠন চলে সংস্কারের গতিতে, ক্যালেন্ডারের গতিতে নয়। বাজেট বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠান, আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এখন পুনর্গঠনাধীন।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনাটি নিহিত। প্রথম বছরে যা গুরুত্বপূর্ণ, তা পূর্ণতা নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো দিকনির্দেশনা ও গতি। সরকার যদি একটি প্রকৃত শুভসূচনা নিশ্চিত করতে পারে, অর্থাৎ রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়নে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোয় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোয় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে ধাপে ধাপে সংস্কার ক্রমপুঞ্জীভূত হতে শুরু করবে। সংস্কার সক্ষমতা তৈরি করে; সক্ষমতা বাস্তবায়নকে সম্ভব করে; বাস্তবায়ন বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলে; আর বিশ্বাসযোগ্যতা সেই বিনিয়োগ টেনে আনে, যা পরবর্তী ধাপের অর্থায়ন করে। অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার এভাবেই কাজ করে। একটি অধিকতর দক্ষ ও কল্যাণমুখী অর্থনীতিও এভাবেই গড়ে ওঠে; এক বাজেট চক্রে নয়, বরং এমন এক ধারাবাহিক অভিযাত্রায়, যার সূচনা হয় একটি বাজেট দিয়ে।
সুতরাং আমার মূল্যায়ন এই: আগামী জুনের মধ্যে কত শতাংশ বাস্তবায়িত হলো, সেই মানদণ্ডে এই বাজেটকে মাপবেন না; বরং দেখুন বাস্তবায়নের ভিত্তিগুলো দৃশ্যমানভাবে স্থাপিত হচ্ছে কি না। যদি হয়, তবে এই বাজেটই স্মরণীয় হয়ে থাকবে সেই মুহূর্ত হিসেবে, যখন বাংলাদেশের পুনরুদ্ধার রূপ নিয়েছিল পুনর্গঠনে।
ঢাকা মেইল: আপনার দৃষ্টিতে বাজেট বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কি কি হতে পারে? এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কী ধরনের নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
অধ্যাপক তারেক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন: আমার বিবেচনায় এই বাজেটের সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এবং প্রতিটিরই সমাধানের পথ আমাদের হাতের নাগালে।
প্রথম এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আদায়। বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, অথচ গত অর্থবছরে এনবিআর আদায় করেছে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, আর চলতি বছরে আদায় ৪ লাখ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এক বছরে আদায় বাড়াতে হবে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। যে প্রশাসনিক যন্ত্র দিয়ে এই আদায় করতে হবে, সেটি বিগত শাসনামলে দুর্বল ও দলীয়কৃত অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে। সমাধান লুকিয়ে আছে সংস্কারে, চাপ প্রয়োগে নয়। এনবিআরের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, করনীতি ও কর প্রশাসনের পৃথকীকরণ, এবং বিআইএন-টিআইএন ব্যবহার করে করজাল সম্প্রসারণ করতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত করহার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো। প্রথম বছরে লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা অর্জিত না হলেও যদি কর-জিডিপি অনুপাত প্রতি বছর এক শতাংশ পয়েন্ট করে বাড়ানো যায়, সেটিই হবে টেকসই সাফল্য।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ অভ্যন্তরীণ ঘাটতি অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে এবং প্রকৃত বেসরকারি বিনিয়োগ ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। সরকার যদি ব্যাংকের সিংহভাগ ঋণযোগ্য তহবিল নিজেই শুষে নেয়, তাহলে যে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির কথা বাজেটে বলা হয়েছে, তা নিজের অর্থায়ন কাঠামোর সঙ্গেই সাংঘর্ষিক হয়ে পড়বে। সমাধান হলো এডিপিতে কঠোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ছেঁটে ঘাটতিকেই ছোট করে আনা এবং সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎসকে যৌক্তিকভাবে কাজে লাগানো।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক ঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা। ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে; আগামী অর্থবছরে নিট বৈদেশিক ঋণ হবে আগের দ্বিগুণেরও বেশি। বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যাংকঋণের চেয়ে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও এর নিজস্ব ঝুঁকি আছে: ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে, বিনিময় হারের ওঠানামা পরিশোধের বোঝা ভারী করতে পারে, আর বহিঃঅর্থায়নে ধারাবাহিক ঘাটতি ইতোমধ্যেই আর্থিক পরিসর সংকুচিত করেছে। সমাধান হলো ঋণের পরিমাণ নয়, ঋণের গুণমান নিয়ন্ত্রণ করা। ব্যয়বহুল সরবরাহকারী ঋণ পরিহার করে রেয়াতি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; ঋণের অর্থ যেন এমন উৎপাদনশীল খাতে যায়, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় বা আমদানি-বিকল্প সক্ষমতা তৈরি করে পরিশোধের সামর্থ্য বাড়ায়। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার ঋণ-ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঋণঝুঁকিকে মধ্যম মাত্রা থেকে নিম্ন মাত্রায় নামিয়ে আনার ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবে অর্জিত হয়।
চতুর্থ চ্যালেঞ্জটি সবচেয়ে মৌলিক, এবং এখানে একটি অন্তর্নিহিত ট্রেড-অফের কথা সৎভাবে স্বীকার করা দরকার। বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ বড়, ঘাটতি বাড়ছে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ, অথচ একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপর থেকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। অর্থনীতির সরল সত্য হলো, সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ায়, আর বাড়তি চাহিদা মূল্যস্তরের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ সরকার একদিকে ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের গ্যাস প্যাডেলে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির ব্রেক কষতে চাইছে। দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে পুরোপুরি অর্জন করা প্রায় অসম্ভব; একটিকে কিছুটা ছাড় দিতেই হবে। তদুপরি বিশাল ব্যাংকঋণের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখে, তবে উচ্চ সুদহার বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও দমিয়ে দেবে; আর যদি শিথিল করে, তবে মূল্যস্ফীতি জেঁকে বসবে। এই দ্বন্দ্ব পুরোপুরি দূর করা যাবে না, তবে ব্যবস্থাপনা করা যায়। ব্যয়ের গঠন এখানে নির্ণায়ক: সরকারি ব্যয় যদি ভোগ-উদ্দীপক খাতের বদলে উৎপাদন ও সরবরাহ-সক্ষমতা বাড়ায় এমন খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে তা মধ্যমেয়াদে মূল্যস্ফীতি কমাতেই সাহায্য করবে। পাশাপাশি কর-ছাড়ের সুফল ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে নিবিড় নীতি-সমন্বয় অপরিহার্য। অর্থনীতিবিদরাও যথার্থই বলেছেন, শুধু কর হ্রাস দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মুদ্রা ও রাজস্বনীতির সমন্বয়।
শেষ কথা হলো, এই চ্যালেঞ্জগুলো পরস্পর সংযুক্ত। রাজস্ব বাড়লে ঘাটতি কমবে; ঘাটতি কমলে দেশি-বিদেশি ঋণের চাপ কমবে; ঋণের চাপ কমলে বেসরকারি খাত অর্থায়ন পাবে; উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতিও নামবে। অর্থাৎ সংস্কারের একটি সঠিক সূচনাই পুরো চক্রটিকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। চ্যালেঞ্জগুলো বাস্তব, কিন্তু অনতিক্রম্য নয়; প্রয়োজন কেবল ধারাবাহিক রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ধৈর্যশীল বাস্তবায়ন।
এমআই




