বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন’

মাহফুজুর রহমান
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন’
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা কলেজের অবকাঠামোগত সংকট, ক্লাসরুম ও ছাত্রাবাসের ঘাটতি, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের সাফল্য, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান।

ঢাকা মেইল: ঢাকা কলেজের বর্তমান অবকাঠামো ও একাডেমিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?


বিজ্ঞাপন


অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস: ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের প্রথম কলেজ। বর্তমান অবকাঠামো থাকলেও আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্লাসরুম ও ছাত্রাবাস-সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ ভালো হলেও অনার্স পর্যায়ে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল করছে। সরকারের সহযোগিতায় অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করা গেলে তারা আরও ভালো করবে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

ঢাকা মেইল: ঢাকা কলেজ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস: ফলাফলের দিক থেকে ঢাকা কলেজ দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশাও অনেক। শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করতে পারে এবং মানবিকতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই কলেজ প্রশাসনের লক্ষ্য। দিন শেষে আমাদের প্রয়োজন মানবিক মানুষ। সে বিষয়টিকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।

ঢাকা মেইল: সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার চর্চা নিয়ে কলেজ প্রশাসনের অবস্থান কী?


বিজ্ঞাপন


অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস: শিক্ষা ছাড়াও সংস্কৃতি ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে ঢাকা কলেজে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও জেলা সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কলেজ প্রশাসনও এসব কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। শিক্ষার্থীরা বিতর্ক, খেলাধুলা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনেও ভালো করছে। সুস্থ বিনোদন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও ফলপ্রসূ হবে।

ঢাকা মেইল: ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা করবেন?

অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস: অবকাঠামোগত উন্নয়ন পুরোপুরি সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। কলেজের বেশির ভাগ ভবন ১৯৫৪ সালে নির্মিত। নতুন একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় এখনো লিফট চালু করা যায়নি। সংযোগ পেলেই ভবনটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে। একই ধরনের আরও একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা গেলে ক্লাসরুম-সংকট অনেকটাই কমবে। এ ছাড়া ছাত্রাবাস-সংকটও প্রকট। বর্তমানে কলেজে আটটি হোস্টেল থাকলেও আসনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। নতুন ১০ তলা ছাত্রাবাস নির্মাণের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেটি অনুমোদন পেলে অন্তত এক হাজার আসনের নতুন হোস্টেল নির্মাণ সম্ভব হবে এবং আবাসন-সংকট কিছুটা কমবে।

ঢাকা মেইল: শিক্ষকসংকট নিয়ে কলেজ প্রশাসনের অবস্থান কী?

অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস: ঢাকা কলেজে কিছু বিষয়ে শিক্ষকসংকট রয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। ইতিমধ্যে শূন্য পদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং কিছু পদায়নও হয়েছে। শিক্ষকসংকট দূর হলে পাঠদান আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে এবং জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।

এম/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর