শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শিগগিরই ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে পরামর্শ উপদেষ্টাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

শিগগিরই ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে পরামর্শ উপদেষ্টাদের

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন তার শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কয়েকজন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিচ্ছেন তারা। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে ট্রাম্পকে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে চাইলে জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের সদস্যদের শপথ নেওয়ার আগেই তা করা উচিত— বলে পরামর্শ দিয়েছিলেন কয়েকজন উপদেষ্টা। 

তাদের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর নতুন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে যাওয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনায় রাজনৈতিক ও আইনি বাধার মুখে পড়তে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। 

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

তিনি দাবি করেন, আগের সিদ্ধান্তে হামলা স্থগিত করে কূটনৈতিক আলোচনার পথে যাওয়ায় ইরানের ওপর চাপ কমেছে।

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার বিরোধিতা করছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। 

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে রয়েছেন বলে  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এরআগে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানায়, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বৈঠকে আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) অমাবস্যার রাতে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ওই রাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চাঁদের আলো প্রায় না থাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। 

প্রতিবেদর আরও বলা হয়, নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা আগের তুলনায় স্বল্পস্থায়ী হলেও আরও তীব্র হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে। কখন এবং কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটি একমাত্র প্রেসিডেন্টই জানেন।

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও সামরিক সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই তারা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনাও তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

সূত্র: এনবিসি, টাইমস অব ইসরায়েল

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর