আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) অমাবস্যার রাতে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই রাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে চাঁদের আলো প্রায় না থাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে সম্ভাব্য হামলার তারিখ হিসেবে ৯ নভেম্বর নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘আগামী ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা থাকবে। ফলে রাতে চাঁদের আলো খুব কম থাকবে—যা সামরিক অভিযানের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি’।
এদিকে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘যদি সম্ভব হয় তবে আমি দেশটির (ইরান) বাকি অংশ ধ্বংস না করতেই পছন্দ করব, তবে হয়তো আমাকে তা-ই করতে হতে পারে। আর আপনারা খুব শিগগিরই তা জানতে পারবেন’।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমান্ডটি সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন করে অভিযান শুরুর কোনো নির্দেশনা পায়নি তারা।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও সামরিক সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই তারা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনাও তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৯ নভেম্বরকে সম্ভাব্য অভিযানের সময় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেটি চূড়ান্ত হামলার তারিখ—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপরই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস
এমএইচআর




