রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মাঝরাতে স্বামীকে পিটিয়ে ঘরছাড়া করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

শেয়ার করুন:

মাঝরাতে স্বামীকে পিটিয়ে ঘরছাড়া করে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে মাঝরাতে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই নারীর স্বামীকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর তাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চলছে।

শুক্রবার রাতে সোনারপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

নির্যাতিতার অভিযোগ, শুক্রবার রাতে সোনারপুরে আত্মীয়ের ভাড়া বাসায় ছিলেন ওই গৃহবধূ। রাতে শেষ ট্রেনে সেখানে পৌঁছান তার স্বামী। তখন ওই আত্মীয় ও তার স্ত্রী অন্য একটি বাড়িতে চলে যান। পরে খাওয়াদাওয়া শেষে স্বামীকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় ঘুমিয়ে পড়েন গৃহবধূ।

গভীর রাতে পাঁচ ব্যক্তি দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ওই নারী ও তার স্বামীকে বিছানা থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন গৃহবধূ। তার সামনেই স্বামীকে মারতে মারতে ঘরের বাইরে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এরপর ঘরে একা পেয়ে পাঁচজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। চিৎকার করতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে ওই নারী চিৎকার করেননি। ফলে পাশের বাড়ির লোকজনও ঘটনা টের পাননি।

ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই নারী। পরে তিনি সোনারপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের একজন কিছুদিন আগেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ঘটনার আগের দিনও অভিযুক্তরা অন্য একটি এলাকায় গিয়ে এক ব্যক্তিকে মারধর করেছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনারপুরের যে বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রকাশ্যে মাদক সেবন এবং মাদক পাচারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর