সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

হারামাইনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নয়: পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

হারামাইনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নয়: পাকিস্তান

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পবিত্র দুই মসজিদের (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে রিয়াদকে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) সম্প্রচারিত সৌদি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ‘সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পাকিস্তানের কাছে কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে’।

তবে সৌদি আরবকে কী পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। 

আইএসপিআর মুখ্যপাত্র বলেন, কোনো প্রতিরক্ষা জোটই সাধারণত প্রকাশ্যে তাদের সহায়তার ধরন ও পরিমাণ জানায় না।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের বিষয়ে তিনি আরও জানান, ‘এই জোটের উদ্দেশ্য আক্রমণ চালানো নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। জোটের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে’।

আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত সৃষ্টিকারীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর না হলে সদস্য দেশগুলো তাদের হাতে থাকা প্রয়োজনীয় উপায়ে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

হুথিদের নিয়ে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগের বিষয়েও কথা বলেন এই দেশটির সামরিক মুখপাত্র।

হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে কি না?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এর উদ্দেশ্য উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করা। পাকিস্তান মনে করে, সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়’।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করা উচিত। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে এবং পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে’।

সূত্র: ডন

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর