শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলের নির্বাচনে মূল ‘কিংমেকার’ আরব নেতা আব্বাস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলের নির্বাচনে মূল ‘কিংমেকার’ আরব নেতা আব্বাস!

ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আরব রাজনীতিক মানসুর আব্বাস। 

২০২১ সালে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সরকার গঠনে সহায়তা করেছিলেন তিনি। এবারও একই লক্ষ্য সামনে রেখে মধ্য-বামপন্থি রাজনীতিক ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন আব্বাস। খবর রয়টার্স ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

তবে আরব নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারে অংশ নেওয়ার তার কৌশল নিয়ে আরব ও ইহুদি—উভয় পক্ষের রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন তিনি।

নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রচারেও বারবার উঠে আসছে আব্বাসের নাম। ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আমের এই নেতাকে ঘিরে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করছেন নেতানিয়াহু। 

তার বক্তব্য, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে পরবর্তী সরকারে আব্বাস গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম চালিকাশক্তি বলেও অভিযোগ করছেন নেতানিয়াহু।

তবে আব্বাসের ঘোষিত অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। তাদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সহিংস অপরাধ, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আবাসনের ক্ষেত্রে বৈষম্য।

ইসরায়েলের বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় আব্বাসের দল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। 

বিরোধী নেতারা তাঁর সমর্থন নিতে রাজি না হলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন তাঁদের জন্য কঠিন হতে পারে। এ কারণেই আব্বাসকে ইসরায়েলের অন্যতম প্রভাবশালী আরব রাজনীতিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রা’আম সামাজিকভাবে রক্ষণশীল একটি দল। ১৯৯৬ সালে ইসরায়েলের ইসলামি আন্দোলনের একটি শাখা দলটি প্রতিষ্ঠা করে। 

মুসলিম পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন দলটির অন্যতম লক্ষ্য। সেই অবস্থান থেকে আব্বাস এখন উদারপন্থি ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, তার লক্ষ্য শুধু বর্তমান সরকারকে পরাজিত করা নয়। নেতানিয়াহুর সরকারকে তিনি ‘বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তার লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন, যেখানে আরব নাগরিকেরা অংশীদার হবেন, নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে পারবেন।

উত্তর ইসরায়েলের বেদুইন অধ্যুষিত শহর তুবা-জাঙ্গারিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে আব্বাস বলেন, ক্ষমতাবানদের টেবিলে আরবরা অনাথ হয়ে পড়ে থাকবেন না। আরব ও ইহুদিদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

২০২১ সালে আব্বাস প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন। সে সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরোধীদের সঙ্গে জোট বাঁধেন তিনি। 

আরও পড়ুন: 

ওই জোটের হাত ধরেই ক্ষমতা হারান নেতানিয়াহু। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে একটি ইসলামপন্থি আরব দলের সরকারে অংশ নেওয়ার নজির তৈরি হয়।

পরের বছর আবার প্রধানমন্ত্রী হন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার গঠন করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর দেশটির অনেক নাগরিকের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের, এমনকি ইসরায়েলের আরব নাগরিকদেরও নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ইহুদি নাগরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সক্রিয় হন ৫২ বছর বয়সি আব্বাস। ৭ অক্টোবরের হামলার দিনই তিনি এর নিন্দা জানান। গাজা সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ইসরায়েলিদের থাকার ব্যবস্থা করতেও সহায়তা করেন। হামাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সহিংসতার পথ ফিলিস্তিনিদেরই ক্ষতি করেছে।

তবে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়েছেন আব্বাস। নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা তাঁকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, একসময় তাঁকে সাহসী পথিকৃৎ হিসেবে প্রশংসা করা ইহুদি জাতীয়তাবাদী বিরোধী নেতাদের কেউ কেউ এখন দূরত্ব বজায় রাখছেন। ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করার হিসাবও তাঁদের অবস্থানের পেছনে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরব দলগুলোর অন্য নেতারাও আব্বাসের সমালোচনা করছেন। তাদের অনেকে ইসরায়েলের সরকারে অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে নীতির বিরোধিতা করাকেই উপযুক্ত মনে করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, আব্বাসের সমঝোতার কৌশল আরবদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

গালিলি অঞ্চলের দ্রুজ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর মাগারে জন্ম আব্বাসের। তার বাবা ছিলেন মুদি দোকানি এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত। আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলজীবনেও সহপাঠীরা বিরোধ মেটাতে তার সাহায্য চাইত।

দন্তচিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর নিজ শহরে দ্রুজ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন আব্বাস। 

সংঘর্ষে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হলে এবং বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে তিনি নিজের চিকিৎসাকেন্দ্র এক মাস বন্ধ রাখেন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন এবং পরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজেও যুক্ত হন।

মানুষের জন্য বড় পরিসরে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই রাজনীতিতে আসেন বলে জানান আব্বাস। ২০১৯ সালে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে যোগ দেওয়ার পর থেকে আরব নাগরিকদের ‘জ্বলন্ত সমস্যা’ সমাধানে মনোযোগ দেন তিনি। বিশেষ করে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি ঠেকানো তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।

আব্বাসের ভাষ্য, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে তিনিও হুমকির মুখে পড়েছেন। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পাশাপাশি আরব, ইহুদি ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকেও সহিংসতার হুমকি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

ইহুদি নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগের কারণেও পরিচিতি পেয়েছেন আব্বাস। ২০২১ সালের মে মাসে ইসরায়েলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তিনি লোদের একটি পুড়ে যাওয়া সিনাগগ পরিদর্শন করেন। শহরের ডানপন্থি ইহুদি মেয়রের সঙ্গে সেটি পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব দেন এবং সহিংসতার নিন্দা জানান।

তবে তখন অনেক আরব তাঁর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইসরায়েলি পুলিশ যখন আরব নাগরিকদের আটক করছিল, তখন আব্বাসের সিনাগগ পরিদর্শন ভুল অগ্রাধিকারকে তুলে ধরেছিল। আরব সাংবাদিক মোহাম্মদ মাগাদলির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতাও সে সময় আব্বাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে আব্বাস নিজের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন আদায়ে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: 

২০২১ সালে নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে রা’আমের যোগদান ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। এর আগে আরব দলগুলো সাধারণত সরকারের বাইরে থেকে নীতির সমালোচনা ও প্রতিবাদ করত। আব্বাসের যুক্তি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশ নেওয়া ছাড়া আরব নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনা কঠিন।

তবে এই কৌশল নিয়ে আরব সমাজের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইহুদি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করতে গিয়ে আব্বাসকে অতিরিক্ত ছাড় দিতে হচ্ছে। 

পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তার বক্তব্য তুলনামূলকভাবে কম বলেও সমালোচনা রয়েছে।

গত আগস্টে দলের এক সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংক্ষেপে বক্তব্য দেন আব্বাস। এরপর তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গী বিরোধী নেতাদের কয়েকজন ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পরও এ বিষয়ে আরও জোরালো অবস্থান না নেওয়ায় আরব নাগরিকদের একাংশ তাঁর সমালোচনা করেছেন।

ইসরায়েলে আরব-ইহুদি সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা সংস্থা আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের সহসভাপতি বাশায়ের ফাহুম-জাইউসির মতে, আব্বাসের কৌশলগত আপস আরব সমাজে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইসলামি আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাফওয়াত ফ্রেইজ বলেছেন, আরব নাগরিকেরা আব্বাসের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও তার রাজনৈতিক কৌশলে সমঝোতার গুরুত্ব বোঝেন।

অতীতে ফিলিস্তিনপন্থি বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য ডানপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছেন আব্বাস। একসময় তিনি বলেছিলেন, জেরুজালেমের ওপর ইসরায়েলিদের কোনো অধিকার নেই এবং তারা ওই ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশকারী।

 রাজনীতিতে আসার আগে ইহুদি ইসরায়েলিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে জানান আব্বাস। সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে তার দাবি, এই পরিবর্তনের অর্থ ফিলিস্তিনি প্রশ্ন থেকে সরে আসা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত সমাধানের পথ তৈরি করাই তার লক্ষ্য।

মধ্য-বামপন্থি রাজনীতিক ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজকে রা’আমের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আব্বাস। মূলধারার আরব ও ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের মধ্যে এ ধরনের জোট ইসরায়েলের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা।

আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অপরাধ দমনে কাজ করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছিলেন সেগালোভিৎজ। তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দল গঠন করেছিলেন। 

তার দাবি, ওই উদ্যোগের সময় হত্যাকাণ্ডের হার ১৬ শতাংশ কমেছিল। ২০২২ সালে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফেরার পর পুলিশের দায়িত্ব পান উগ্র ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন গভির। এরপর সেগালোভিৎজের উদ্যোগগুলো পরিত্যক্ত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইসরায়েলে রেকর্ড ২৫২ জন আরব নাগরিক নিহত হন। এই পরিস্থিতিতে আরব অধ্যুষিত এলাকায় অপরাধ দমনে সেগালোভিৎজের অভিজ্ঞতা আব্বাসের জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

তবে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্যও রয়েছে। সেগালোভিৎজ আরবি জানেন না। আব্বাস সমকামীদের অধিকারের বিরোধী হলেও ধর্মনিরপেক্ষ সেগালোভিৎজ এসব অধিকারের সমর্থক। 

আরও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থান আলাদা। তবু তারা জানিয়েছেন, সব বিষয়ে একমত না হলেও একসঙ্গে কাজ করতে চান।

সেগালোভিৎজের সঙ্গে জোট আব্বাসকে ডানপন্থিদের আক্রমণের জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। একই সঙ্গে রা’আমের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে সেগালোভিৎজ বলেন, ইসলামপন্থি দলের প্রার্থী তালিকায় যোগ দেওয়ায় নেসেটের অনেকের কাছ থেকেই আক্রমণের শিকার হতে পারেন বলে তিনি জানেন। 

তবে আব্বাসের ওপর তার আস্থা রয়েছে। আব্বাসকে সাহসী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সাহসের জন্য আব্বাসকে মূল্য দিতে হয়। ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য তাকে আশার প্রতীক বলেও বর্ণনা করেন সেগালোভিৎজ।

নির্বাচনী প্রচারে আব্বাসের সমর্থকদের মধ্যেও অপরাধ দমনের প্রত্যাশা বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। উত্তর ইসরায়েলের সাখনিন শহরে প্রচার শেষে ৫৩ বছর বয়সি ভোটার ইহসান বশির তাকে পরবর্তী সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। 

এমনকি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার হলেও তাতে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি। তার আশা, আব্বাস সরকারে থাকলে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অপরাধ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

আব্বাস আশা করছেন, রা’আম নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পাবে এবং নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। 

তবে নির্বাচনের ফল এবং সরকার গঠনের পর বিরোধী দলগুলোর অবস্থানই নির্ধারণ করবে, তিনি শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। 

--এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর