ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের তেল স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সেনাসদস্য মোতায়েনের কার্যক্রম শুরু করেছে ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভ্রু এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সৌদি আরবে ঠিক কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
এরআগে গত সেপ্টেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স সেনাসদস্য, রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে।
ইয়ানবু সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও বন্দরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এর আগে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবকে দেওয়া সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।
তিনি জানান, এই সহায়তার উদ্দেশ্য সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা; হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও জ্বালানি পরিবহন অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। ইয়ানবু বন্দর এবং পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত তেল পরিবহনব্যবস্থা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ইতালিও বিভিন্ন ধরনের সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাবের আওতায় যুক্তরাজ্য সৌদি অভিযানে সহায়তার জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ভয়েজার বিমান ব্যবহার করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাবও জানিয়েছে।
এছাড়াও ইতালি রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহের কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স
এমএইচআর




