বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের কট্টরপন্থি এমপি কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের কট্টরপন্থি এমপি কারাগারে

সরকারের সমালোচনা করে পত্রিকায় নিবন্ধন লেখায় ইরানের কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হামিদ রেজাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনিই দেশটির প্রথম কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) যাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। 

হামিদের কারাবাসের ঘটনায় ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গালফ নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামিদ রেজাইকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পর পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কট্টর রক্ষণশীলরা।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধের জেরে রেজাইকে এই সাজা দেওয়া হয়। ওই নিবন্ধে গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি কারসাজি’ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ইরানে যখন নতুন করে বিতর্ক চলছে, তখন এই ঘটনা ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

তেহরান থেকে ২০২৩ সালে এমপি নির্বাচিত হন রেজাই। সংসদে আসার আগে তিনি কট্টরপন্থি সাপ্তাহিক ৯ দে পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘গালিবাফের সংসদীয় নথি কারসাজি’ শিরোনামের নিবন্ধটির কারণে তাকে ‘অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। 

রেজাই সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গালিবাফ তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেছিলেন। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা হওয়ায় মামলাটি বিশেষ ধর্মীয় আদালতে বিচার হয়।

ইরান স্টাডিজবিষয়ক আইআরএএম সেন্টারের গবেষক রহিম ফারজামের মতে, ইরানের রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে পশ্চিমা দেশগুলো ক্রমেই ‘সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী বাস্তববাদী’ এবং ‘আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থিদের’ দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছে।

তার মতে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিক নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।

ফারজাম বলেন, এই বিভাজনের বিষয়টি এখন শুধু গণমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলেও এটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক অচলাবস্থার পেছনে তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ফারজাম মনে করেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্য, প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি ও জাতীয় দৃঢ়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইরানের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—তিনটি শাখাই নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই ধরনের বার্তা দিচ্ছেন।

ফারজামের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে বাইরের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তেহরান বোঝাতে চাইছে, দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত কোনো নিয়ন্ত্রণহীন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পরিচালিত হচ্ছে না।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর