শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সৌদির রাজধানীতে হামলার সতর্কবার্তার পরই বিকট বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

সৌদির রাজধানীতে হামলার সতর্কবার্তার পরই বিকট বিস্ফোরণ

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই রাজধানী রিয়াদে প্রথমবারের মতো বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

শনিবার ভোর হওয়ার আগেই সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স রাজধানী রিয়াদ এবং নিকটবর্তী শহর আল-খারজের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। খবর দ্য খামা প্রেসের।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর আন্তঃসীমান্ত হামলা জোরদার করার পর থেকে রিয়াদের জন্য সিভিল ডিফেন্সের এটিই ছিল প্রথম জানা সতর্কতা। 

সতর্কতার সময় রিয়াদের আল-ওলায়া এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন সাংবাদিক, তবে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণের কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাত থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত রিয়াদসহ সৌদি আরবের কয়েকটি অঞ্চলে সতর্কবার্তা পাঠায় দেশটির সিভিল ডিফেন্স। 

এরপর রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান রয়টার্স ও এএফপির সাংবাদিকরা।

পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদ কেটে গেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়। 

বিবিসি বলছে, জুলাইয়ে হুতি গোষ্ঠীর হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি জাহাজের ওপর ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করার পর রিয়াদে এবারই প্রথম বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলো।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ ছাড়াও প্রায় ৩০ মিনিটের ব্যবধানে সৌদি সিভিল ডিফেন্স সাতটি শহর ও প্রদেশে ধারাবাহিক সতর্কতা জারি করে এবং পরবর্তীতে জানায় যে বিপদ কেটে গেছে। 

এর মধ্যে জেদ্দা, তায়েফ, ইয়ানবু, আল-উলা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং আবহা—এই এলাকাগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

তবে রিয়াদে বিস্ফোরণ নির্দিষ্টভাবে কোথায়, কীভাবে ঘটেছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর আন্তঃসীমান্ত হামলা জোরদার করার পর থেকে রিয়াদের জন্য সিভিল ডিফেন্সের এটিই ছিল প্রথম জানা সতর্কতা। সতর্কতার সময় রিয়াদের আল-ওলায়া এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন সাংবাদিক; তবে সৌদি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণের কারণ ব্যাখ্যা করেননি।

পরবর্তীতে সৌদি সিভিল ডিফেন্স পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে জানিয়ে ‘অল-ক্লিয়ার’ বা বিপদ কেটে যাওয়ার বার্তা দেয়। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানালেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে, কিংবা ধেয়ে আসা কোনো প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) প্রতিহত করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দেয়নি।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় তাদের ভাষায় ‘অপরাধমূলক প্রচেষ্টা’ নস্যাৎ করার কথা ঘোষণা এবং এর জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে প্রতিশোধের অঙ্গীকার করার কয়েক ঘণ্টা পরই এই সতর্কবার্তাটি আসে। রিয়াদে ঘটা বিস্ফোরণের দায় হুতিরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।

explo

ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। 

গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল বরাবর সামরিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে।

এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’-এর তথ্যমতে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এছাড়া এই লড়াই লোহিত সাগর এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌ-চলাচলের পথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’র নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর