শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও মমতার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও মমতার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার দুই আসনে হতে যাচ্ছে উপনির্বাচন। আসন দুটি হলো- পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম একং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। 

নন্দীগ্রমের পর এবার রেজিনগরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তিনি উপনির্বাচনে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন। 

এর আগে নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। জানা গেছে, তিনি গোপনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। 

শনিবারই (১৯ সেপ্টেম্বর) উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। নতুন করে আর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগও নেই। ফলে রবিউল সরে দাঁড়ানোয় রেজিনগর কেন্দ্রের ভোটও হবে মমতা তৃণমূলকে ছাড়া।

কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার? রবিউল বলেন, ‘‘দলের নতুন প্রতীক হয়েছে। কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তা হলে আমরা ভোটে লড়ব কী করে? সেই কারণেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ 

মমতার সঙ্গেও তার কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রবিউল। তাকে জানিয়েই মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন প্রার্থী। রবিউল আরও জানান, নতুন প্রতীক এত কম সময়ের মধ্যে কর্মী এবং সমর্থকদের চেনাতেও তার সমস্যা হবে। 

মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ তা-ও। শনিবার সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্দেশে বহরমপুরে রওনা দেন রবিউল। এর ফলে উপনির্বাচনে রাজ্যের দুই কেন্দ্রেই মমতার কোনও প্রতিনিধি রইলেন না।

এ প্রসঙ্গে কালীঘাটকে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথায়, “টেন পাশ নেতা বলেছিলেন নন্দীগ্রামে অঘটন ঘটাবেন তাদের প্রার্থী। শুক্রবার নন্দীগ্রামে আর শনিবার রেজিনগরের প্রার্থী অঘটন ঘটালেন। 

আসলে নেত্রী গোল দিতে ময়দানে নেমেছিলেন, কিন্তু তার সব শট নিজেদের গোলে ঢুকে সেমসাইড হয়ে যাচ্ছে। মমতা শিবিরের এমপি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রেজিনগরের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে বলেন, সমস্যা তো কিছু আছেই। কথা বলতে হবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই।

জোড়াফুল ফ্রিজ করার পর শুক্রবার নির্বাচন কমিশন পৃথক নাম এবং প্রতীক দেয় মমতা ও ঋতব্রত শিবিরকে। কালীঘাটপন্থী শিবিরের নাম হয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত শিবিরের নাম হয় গণতান্ত্রিত তৃণমূল কংগ্রেস। 

মমতার দল ‘ফুটবলার’ প্রতীক পেয়েছে। ঋতব্রতেরা পেয়েছেন খাম চিহ্ন। এর পরেই শুরু হয় নাটক। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তার আগের দিনই তিনি গোপনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। 

মমতা এর পর সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, তিনি নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ বছরের পুরনো খুনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবার উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন রেজিনগরের প্রার্থীও।

রবিউল যে সরে দাঁড়াতে পারেন, তা শুক্রবার সঞ্চিতার পদক্ষেপের পরেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে মমতা শিবির। 

নন্দীগ্রামে যে সংগঠন দুর্বল, মেনে নেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষও। তবে অবিলম্বে কংগ্রেস প্রার্থী মিলনের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর