সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইফে ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটি প্রতিহত করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ তাইফের একটি এলাকায় পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সংস্থার মুখপাত্র জানান, নিহত ব্যাক্তি ইয়েমেনি নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন সৌদি নারী এবং অপরজন পাকিস্তানের নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, আহত পাকিস্তানি নাগরিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই এলাকায় কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এ হামলার ঘটনায় হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ড্রোনটির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
চলতি মাসের শুরু থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুথিরা।
সৌদি আরব মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি হুথি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে আকাশে শনাক্ত করা হয়। তবে ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।
যদিও মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর সৌদি অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।
প্রসঙ্গত, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট নিয়মিতভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে। তবে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা গেলেও অনেক সময় এর ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ে হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।
এদিকে সৌদি আরবে এই হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বেসামরিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজনের মৃত্যু ও দুজন আহত হওয়ার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: আরব নিউজ, মিডল ইস্ট মনিটর
এমএইচআর




